যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। মধ্যপ্রাচ্যে তাই বিরাজ করছে যুদ্ধাবস্থা। এমন অবস্থায় ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ক্রমশ অনিশ্চয়তা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে ইরানের এবার বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করা উচিত।
জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। সূচি অনুযায়ী ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ ইরানের তিন ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই হওয়ার কথা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্পর্ক যে অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে, তাতে করে ইরানের বিশ্বকাপে না খেলাই উত্তম মনে করেন ট্রাম্প। গতকাল ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত। কিন্তু তাদের (ফুটবলার ও ভক্ত-সমর্থক) জীবন ও নিরাপত্তার ব্যাপারটা দেখলে বিশ্বকাপে খেলা ঠিক হবে বলে মনে হচ্ছে না।’
বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা গত দুই সপ্তাহ ধরেই। এরই মধ্যে মঙ্গলবার জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে আশাবাদী হওয়ার মতো খবর পাওয়া যায়। সেদিন নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে ফিফা প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছি। সেখানে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অগ্রগতি ও ৯৩ দিন যখন বাকি টুর্নামেন্ট শুরু হতে, এই সময়ে চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেছি।’
ইনফান্তিনোর পোস্টের পরদিন ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দুনিয়ামালি। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুনিয়ামালি জানিয়েছেন, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান অংশগ্রহণ করবে না। গতকাল ইরান সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছে, ‘বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আয়োজন। এর পরিচালনাকারী সংস্থা কোনো একক দেশ নয়, আয়োজন করে ফিফা। ইরান এই বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে প্রথম দিকের তালিকায় ছিল। ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে কেউ বাদ দিতে পারবে না। বরং বাদ পড়তে পারে সেই দেশ, যারা নামে স্বাগতিক দেশ। কিন্তু এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নেই।’
বিশ্বকাপে রাজনৈতিক কারণে দল প্রত্যাহারের উদাহরণ খুব একটা নেই। তবে ১৯৯২ ইউরোতে বলকান যুদ্ধের কারণে যুগোস্লাভিয়াকে নিষিদ্ধ করে তাদের পরিবর্তে ডেনমার্ককে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ইউক্রেন আক্রমণের কারণে রাশিয়াকেও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছে ফিফা ও উয়েফা। এখন বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেয় কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে।