২–০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩–২ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে মিসর। সেই পরাজয়ের পর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিকে ধরে রাখার চেষ্টাও থাকতে পারে।
শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর হোসাম হাসান বলেন, ‘আমার একটি গোল বাতিল করা হয়েছে, আমি জানি না কেন, এবং এটা ন্যায্য নয়। মনে হচ্ছে মেসিকে টুর্নামেন্টে এগিয়ে রাখার একটা ইচ্ছা আছে; এখানে বিপণনের বিষয়ও রয়েছে।’
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও কঠোর ভাষায় মিসরের কোচ বলেন, ‘আমরাই ভালো খেলেছি, কিন্তু ফুটবল অন্যায় করেছে। হয়তো তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং মেসিকে বিপণনের স্বার্থে বিশ্বকাপে রাখতে চায়। রেফারি মিসর জাতীয় দলের প্রতি অবিচার করেছেন, এখানে কোনো ন্যায়বিচার নেই। তবে ফুটবলের বাইরেও অন্য কিছু বিষয় ছিল, যেগুলো এই হারের কারণ হয়েছে।’
হোসাম হাসান অবশ্য নিজের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাই, তারা দারুণ পরিশ্রম করেছে। কিন্তু আরও কিছু বিষয় আছে, যা পরিস্থিতিকে কঠিন করে তোলে। আর আমি হারতে পছন্দ করি না।’
ম্যাচের ফল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা সমর্থকদের আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফুটবলে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা কারিগরি বিষয়ের বাইরে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি সমর্থন রয়েছে, কেন রয়েছে আমি জানি না।’
মিসর ও আরব বিশ্বের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে হোসাম হাসান বলেন, ‘আমি মিসর ও আরব জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমরা আপনাদের আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম এবং বিশ্বকাপে যত দূর সম্ভব যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু খেলোয়াড়রা তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এর চেয়েও অনেক দূর যাবে। আর সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ।’
আটলান্টায় শেষ ষোলোর এই ম্যাচে ১৫তম মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিসর। ৬৭ মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে ব্যবধান হয় ২–০। কিন্তু শেষ ১১ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনসো ফের্নান্দেসের গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে ৩–২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। এরপরই ম্যাচের রেফারিং ও টুর্নামেন্ট নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মিসরের কোচ।