হোম > খেলা > ফুটবল

বিশ্বকাপে আতঙ্কে দিন কাটছে মেক্সিকোর যেসব এলাকার ফুটবলপ্রেমীদের

ক্রীড়া ডেস্ক    

মেক্সিকোর অনেক এলাকায় এভাবে উদযাপনও করতে পারেন না ফুটবলপ্রেমীরা। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ মাঝপথে এসে পড়েছে। পরশু গ্রুপ পর্ব শেষে সেদিন রাতেই শুরু হচ্ছে শেষ বত্রিশ পর্ব। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে চলমান বিশ্বকাপ নিয়ে পুরো বিশ্ব বুঁদ হয়ে আছে। কিন্তু খোদ আয়োজক হওয়া সত্ত্বেও মেক্সিকোর অনেক এলাকায় ফুটবলপ্রেমীদের দিন কাটছে আতঙ্কে।

মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মন্তেরে—মেক্সিকোর এই তিন শহরে রাস্তা, চত্বর ও ফ্যান জোনগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগ করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু দেশটির যেসব গ্রাম ও শহরে মাদক কার্টেল-সহিংসতায় জর্জরিত, সেখানে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রায় প্রতিদিনই এসব এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসব এলাকায় বসবাসরত মানুষের কাছে বরং বিশ্বকাপ উন্মাদনার চেয়ে জীবনের নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মিচোয়াকান মেক্সিকোর তেমনই এক রাজ্য, যেখানে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ সবচেয়ে বেশি হয়। সেই এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লেবুচাষি বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘আমি ফুটবল খুবই পছন্দ করি। কিন্তু আমরা অনেক আতঙ্কে থাকি। কদিন আগে বিশ্বকাপের এক ম্যাচ চলার সময় স্থানীয় কার্টেলগুলো কাছাকাছি একটি খামারে ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছিল। আগে মানুষ একসঙ্গে বসে খেলা দেখত। বাজিও ধরত। এখন আর তা হয় না। এখানে কোনো উৎসব নেই।’

মেক্সিকো সিটি থেকে ৬৪৫ মাইল (১০৩৮ কিলোমিটার) দূরে সিনালোয়া রাজ্যের রাজধানী কুলিয়াকানের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ১০ লাখ জনসংখ্যার কুলিয়াকান শহরে কার্টেলের প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে সংঘর্ষ চলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী চলমান সংঘাতের কারণে সিনালোয়ায় বহু ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ।

কুলিয়াকানে মানুষ রাস্তায় উদ্‌যাপনের পরিবর্তে নিরিবিলি জায়গায় যায়। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে কখনো বন্ধুদের বাড়িতে যায় অথবা পাবে জড়ো হয় তারা। এদিকে সহিংসতার কারণে দুই বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকটের পর বিশ্বকাপে ব্যবসা চাঙা হবে বলে আশা করেছিলেন কুলিয়াকান শহরের শেফ ও রেস্তোরাঁর মালিক হোসে মিগেল তানিয়ামা।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে শুরুর দিকে তানিয়ামার হোটেল ব্যবসা অবশ্য চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। যেখানে ১১ জুন আসতেকায় মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ মেক্সিকো শুরু করেছিল ২-০ গোলের জয় দিয়ে। খেলা শুরুর মুহূর্তে মাত্র দুই টেবিলে অতিথি ছিলেন। কয়েক দিন পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পরে সবকিছু ফিরে যায় আগের অবস্থায়।

সহিংসতার আশঙ্কায় ফুটবলপ্রেমীরা বাইরে খেলা দেখতে চান না বলে মনে করেন তানিয়ামা। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা খুব ধীরগতির। কিছু বুকিং ছিল। কিন্তু আসনগুলো পূর্ণ হয়নি। আর আগের বড় টুর্নামেন্টগুলোর মতো বিক্রিও হচ্ছে না। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ দ্রুত বাড়ি ফিরে যান।’

মেক্সিকো উপসাগর-সংলগ্ন এলাকা পোজা রিকাদতেও সম্প্রতি কার্টেল-সহিংসতা বেড়েছে। ১৮ জুন মেক্সিকো-উত্তর কোরিয়া ম্যাচ শুরুর পর রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা ছিল। গিয়ের্মো নুনিয়েজ নামে ২৮ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘উদ্‌যাপন করতে কেউই বাইরে বের হননি।’ তিনি স্থানীয় এক ফুটবল দলের খেলোয়াড়ও। একসঙ্গে খেলা দেখার পর নুনিয়েজ তাঁর এক বন্ধুকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন।

মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই আসতেকা স্টেডিয়ামের আশপাশের রাস্তায় বিক্ষোভ হয়েছিল। এমনকি ম্যাচ চলার সময়ও চলছিল সংঘর্ষ। দেশের অবস্থা যা-ই হোক, মাঠের পারফরম্যান্সে মেক্সিকো দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠেছে বিশ্বকাপের এই সহ-আয়োজক।

ফাইনালের আগেই দেখা হচ্ছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার, কিন্তু কবে

ব্রাজিল ম্যাচের আগে জাপান কোচের বিশেষ বার্তা

বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলে ১১৮ কোটি টাকার নকল জার্সি জব্দ

বড় স্বপ্ন দেখছে মরক্কো

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ কারা উঠল শেষ বত্রিশে, অপেক্ষায় যারা

যে দুই ম্যাচে চোখ থাকবে আর্জেন্টিনারও

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার পর ইকুয়েডরে সরকারি ছুটি ঘোষণা

হারের পর সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন জার্মান কোচ

নকআউটে ‘প্রিয় শিকারের’ বিপক্ষে কি জ্বলে উঠবেন নেইমার

বদলে যাওয়া জাপানই এখন ব্রাজিলের মাথাব্যথার কারণ