বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। ২৩ তম বিশ্বকাপকে ঘিরে ভক্তদের মনে যখন আনন্দের ঢেউ খেলছে, তখন আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় আছে কিছু দল। এবার প্রাইজমানি বাড়িয়ে দলগুলোর চিন্তা দূর করল ফিফা।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)। মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দলের জন্য মোট আর্থিক তহবিল ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তহবিল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি, বাছাইপর্ব, দলীয় প্রতিনিধিদলের ব্যয় ভর্তুকি এবং টিকিট বরাদ্দসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হবে।
এক বিবৃতিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা বর্তমানে তার ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে আমরা সদস্য দেশগুলোকে নজিরবিহীনভাবে সহায়তা করতে পারছি। আমাদের আয় আবারও ফুটবলের উন্নয়নেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে—এটি তারই প্রমাণ।’
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের কিছু ফুটবল সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, নতুন ফরম্যাটের বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রাইজমানি বাড়াল ফিফা। এর আগে গত ডিসেম্বরেই ফিফা ৪৮টি দলের মধ্যে বণ্টনের জন্য রেকর্ড ৭২৭ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার অর্থ অনুমোদন করেছিল—যার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া বৈঠকে আরও বেশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রুপ পর্ব শেষে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের পর খেলোয়াড়দের হলুদ কার্ড মুছে ফেলার নিয়ম অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ফরম্যাটে শেষ ৩২ পর্ব যুক্ত হওয়ায় ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে। ফলে আগের নিয়ম বহাল থাকলে হলুদ কার্ড জমে বেশি সংখ্যক খেলোয়াড় নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।
শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়েও কঠোরতা এনেছে ফিফা। প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকলে খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। একইভাবে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ত্যাগ করা বা খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে উসকানি দিলে সংশ্লিষ্টদের লাল কার্ড দেখানো হবে।