অভিষেক ম্যাচ, আলোও ছড়িয়েছেন। ম্যাচ শেষে হতাশায় ভেঙে পড়তে হলো তাঁকে। মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন অঝোরে। শেষ মুহূর্তের গোলে হংকংয়ের কাছে হেরে গিয়ে যে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। দারুণ খেলেও জায়ানের মনে তাই ঠাঁই পায়নি আত্মতৃপ্তি।
বাবা শরীফ আহমেদ একসময় ঢাকার ফুটবলে খেললেও ক্যারিয়ারটা দীর্ঘ করতে পারেননি। উচ্চতর পড়ালেখার কারণে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগ দমে যায়নি। তাই তো ছেলেকে পরিণত করেছেন ফুটবলারে।
জর্জ ম্যাশন বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে স্পেন, ডেনমার্কসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি একাডেমিতে অনুশীলন করেছেন জায়ান। অংশ নেন গত জুনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়ালে। সেই ট্রায়াল থেকে একমাত্র তিনিই জায়গা করে নেন অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দলে। বাংলাদেশ মূল পর্বে জায়গা করে নিতে না পারলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উজ্জ্বল ছিলেন জায়ান। লেফট ব্যাক হিসেবে তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি, গতি, ওপরে উঠে ক্রস করার সক্ষমতা অনন্য করে রেখেছে।
জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরারও নজর এড়ায়নি তা। প্রথমবার ডাক পেয়ে হংকংয়ের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে পরশু নিজেকে প্রমাণের জন্য মুখিয়ে ছিলেন জায়ান। কিন্তু তাঁকে শুরুর একাদশে খেলানোর মতো সাহস করতে পারেননি কাবরেরা। উল্টো খেলিয়েছেন সাদ উদ্দিনকে। অথচ তাঁর পায়ের ফাঁক দিয়ে বল ঠেলে গোল করেছে হংকং।
৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে জায়ান মাঠে নামার পর লেফট উইং দিয়ে প্রাণবন্ত লাগছিল বাংলাদেশকে। প্রথম স্পর্শে বল টেনে নিয়ে ক্রস করেন তিনি। পিছিয়ে যাওয়া দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনতে নিংড়ে দিচ্ছিলেন সবটুকু। তাই প্রশ্ন জাগে, ২১ বছর বয়সী এই লেফট ব্যাককে আগে না খেলিয়ে কি ভুল করেছেন কোচ। কাবরেরা অবশ্য তা মানছেন না। তাঁর দাবি, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল তাকে দ্বিতীয়ার্ধে খেলানোর। প্রথমার্ধে আমরা চেয়েছিলাম এভেরতন কামারগোর বিপক্ষে এমন একজন খেলুক, যার ডুয়েলে অভিজ্ঞতা আছে। সেটা সাদের আছে। এভেরতন ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার পর জায়ানকে নামিয়েছি। সে ভালো খেলেছে।’
প্রায় ২৫ মিনিটের খেলায় হংকংয়ের বিপক্ষে ১৪ অক্টোবর ফিরতি লেগের ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলার দাবিদার হয়ে থাকলেন জায়ান। তবু দিন শেষে সিদ্ধান্ত তো কাবরেরার হাতে।