বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে মিসর। আলোচিত ম্যাচটিতে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ দলটির ফুটবলাররা। বিষয়টি নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।
ইএফএ’র সভাপতি হানি আবু রিদা ম্যাচের ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে এবং তাঁর দুই সহকারী সিরিল মুনিয়ে ও মেহদি রহমানির সিদ্ধান্তগুলোর তদন্ত চেয়েছেন। ফেডারেশনের যোগাযোগ বিষয়ক প্রধান মোহাম্মদ মোরাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মিসর ফুটবল ফেডারেশন আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করছে।’
ম্যাচের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিসরের স্ট্রাইকার মোস্তাফা জিকো। তাঁর অভিযোগ, পুরো টুর্নামেন্টই সাজানো এবং রেফারি সঠিকভাবে বাঁশি বাজাননি। প্রধান কোচ হোসাম হাসানও একই ধরনের অভিযোগ তুলে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।
বিতর্কের সূত্রপাত ম্যাচের ৫৮ মিনিটে। জিকো গোল করলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় মিসর। কিন্তু পরবর্তীতে ভিএআরের সহায়তায় অভিযোগে গোলটি বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে পেছনে থেকে জার্সি টেনে ফেলে দেন মিসরের এক ফুটবলার। ম্যাচের শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ আর্জেন্টিনার ডি বক্সে পড়ে যাওয়ার পরও কেন রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি সেটা নিয়েও বিতর্ক চলছে।
৭৮ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর আর্জেন্টিনার হয়ে স্কোরলাইন ২-১ করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এরপর লিওনেল মেসি ও এনসো ফার্নান্দেস জালের দেখা পেলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জয়সূচক গোলটি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে মিসর। আফ্রিকার দলটির দাবি, আক্রমণ শুরুর আগে ফাতির ওপর ফাউল হয়েছিল এবং সেই ঘটনায় তাদের একটি পেনাল্টি প্রাপ্য ছিল। কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
৩৭ বছর বয়সী লেতেক্সিয়ে বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি হিসেবে পরিচিত। চলতি বিশ্বকাপে এর আগে কেপ ভার্দে-সৌদি আরব এবং আইভরি কোস্ট-ইকুয়েডর ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এ ছাড়া ২০২১ সালের ইউরোপা লিগ ফাইনাল, ২০২৩ সালের উয়েফা সুপার কাপ এবং ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেন।