বজ্রপাতের তাণ্ডবে ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে খেলা বন্ধ থাকল দুই ঘণ্টার বেশি সময়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়াও দমাতে পারেনি কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। মাঠের খেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলককে রাঙালেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
এমবাপ্পের জাদুকরি জোড়া গোলের ওপর ভর করে ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে ১৬ গোল করে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের শুরু থেকে ইরাকি ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে ছাড়েন এমবাপ্পে। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নিজের তথাকথিত ‘দুর্বল’ বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এর পরপরই শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হওয়ায় নিরাপত্তা রক্ষার্থে ম্যাচ স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার বেশি সময় ড্রেসিংরুমে বন্দী থাকার পর পুনরায় খেলা শুরু হলে আক্রমণের ধার বাড়ায় দিদিয়ের দেশমের দল।
৫৪ মিনিটে ইরাকের ডিফেন্ডার জায়েদ তাহসিনের একটি ভুল ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে নেন উসমান দেম্বেলে। তাঁর নিখুঁত পাস থেকে ডান পায়ের আলতো ট্যাপ-ইনে নিজের দ্বিতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন এমবাপ্পে। পরে দেম্বেলে নিজেই ফ্রান্সের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে ইরাকের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন, যা ছিল বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম গোল।
ম্যাচে জোড়া গোলে চলতি টুর্নামেন্টে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়াল চারে, যা তাঁকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির ঠিক পেছনে বসিয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর গোল ১৬টি, তবে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্তিগত এই অর্জন নিয়ে নির্লিপ্ততা প্রকাশ করে এমবাপ্পে বলেন, ‘গোল্ডেন বুট নিয়ে এই মুহূর্তে আমি একদমই ভাবছি না। দলের মধ্যে এমন একটি পরিবেশ থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে আমরা নিজেদের শক্তি খুঁজে পাই। আমি বিশ্বকাপে সব সময়ই গোল করেছি, তাই এটি নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমাদের অগ্রাধিকার হলো দল হিসেবে খেলা, কারণ টুর্নামেন্টে যত সামনে যাব, চ্যালেঞ্জ তত কঠিন হবে।’
একই দিনে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির জোড়া গোলের প্রসঙ্গে এমবাপ্পে যোগ করেন, ‘মেসির সঙ্গে কোনো লড়াই নেই। লিও সব সময়ই গোল করে এসেছে এবং করবে। আমি ও কী করছে তা দেখি না, দেখলে আমাকে আরও বেশি করতে হবে। আমি শুধু নিজের দলের দিকে তাকাই।’
শিষ্যের প্রশংসা করে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, ‘রেকর্ড গড়া হয় তা ভাঙার জন্যই। সে ১০০টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে, সামনে আরও গোল করবে। মেসি বা রোনালদো যেভাবে খেলছে, কিলিয়ান সেই বয়স পর্যন্ত খেলবে কি না আমি নিশ্চিত নই, তবে মাঠে থাকলে সে গোল করতেই থাকবে। এই রেকর্ডকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তার আছে। ড্রেসিংরুমে সে শুধু একজন ভালো খেলোয়াড়ই নয়, একজন আদর্শ অধিনায়ক।’
প্রথম ম্যাচে সেনেগালের পর এবার ইরাককে হারিয়ে গ্রুপ ‘আই’ থেকে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করল ফ্রান্স। আগামী শুক্রবার গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে নরওয়ের। যেখানে এমবাপ্পের দল মুখোমুখি হবে আরেক ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ডের, আর এই ম্যাচই নির্ধারণ করবে গ্রুপ সেরা হয়ে কারা পা রাখছে বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে।