বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করার পর এবার আরও বড় স্বপ্ন দেখছে মরক্কো। কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির বিশ্বাস, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদানই আছে তাঁর দলে। তাই আফ্রিকার প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চান তাঁরা।
হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপে অপরাজিত থেকে নকআউট পর্বে উঠেছে মরক্কো। যদিও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপসেরা হতে পারেনি তারা। তারপরও দলের আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি দেখছেন না ওহাবি। ম্যাচের পর মরক্কো কোচ বললেন, ‘মরক্কো এখন নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা নিজেদের দলের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারছে, প্রতিপক্ষও আমাদের সমীহ করছে। বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যেও আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে। প্রতিপক্ষকে সম্মান করে শতভাগ প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগোতে হবে। আমার বিশ্বাস, বিশ্বের সেরা দল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদানই আমাদের আছে।’
আটলান্টায় হওয়া ম্যাচে অবশ্য মরক্কোকে বেশ পরীক্ষা নিয়েছে হাইতি। ১৯৭৪ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটি ৫২ বছরের গোল-খরা ভেঙে দুবার এগিয়েও গিয়েছিল। প্রথমে আত্মঘাতী গোলে, পরে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন উইলসন ইসিদর। তবে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ও ইসমায়েল সাইবারি বিরতির আগেই সমতা ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড়দের অবদানেই জয় নিশ্চিত করে মরক্কো। সুফিয়ান রাহিমি দলকে প্রথমবার এগিয়ে দেন, পরে তাঁরই তৈরি করা সুযোগ থেকে ব্যবধান বাড়ান জেসিম ইয়াসিন।
হারের পরও হাইতির পারফরম্যান্সে গর্বিত কোচ সেবাস্তিয়েন মিগনে। তিনি বলেন, ‘ফলাফলে হতাশ, কিন্তু আমার খেলোয়াড়েরা কখনো হাল ছাড়েনি। তারা হাইতির মানুষের লড়াকু মানসিকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।’
গোলদাতা ইসিদরও হাইতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী, ‘এদিন আমরা দুটি গোল করেছি, এটা নিয়ে আমরা গর্বিত। পয়েন্ট না পাওয়াটা হতাশার, তবে এই প্রজন্মকে নিয়ে আমার বিশ্বাস আছে। আমরা আবার ফিরব এবং বিশ্বকাপে হাইতির প্রথম পয়েন্ট জয়ের চেষ্টা করব।’