হোম > খেলা > ফুটবল

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে লড়াইটা মেসি-কেইনেরও

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

আটলান্টায় আজ সেমিতে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি করেছেন ৮ গোল। কম যাচ্ছেন না হ্যারি কেইনও। ইংলিশ অধিনায়ক ৬ গোল করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই অন্য উত্তেজনা। ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে শুরু করে বেকহ্যামের লাল কার্ড—সবই যেন দুই দলের তীব্র লড়াইয়েরই একেকটি ফলক। এবার এই দুই দলের দ্বৈরথের কেন্দ্রে দুই অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইন। একজন বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি, অন্যজন ইংল্যান্ডের আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোলদাতা। তাঁদের সামনে ফাইনালের হাতছানি।

৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন প্রমাণ করে চলেছেন, ফুটবলে বয়স সব সময় সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। আগের মতো বিস্ফোরক গতি না থাকলেও তাঁর দৃষ্টি, নিখুঁত পাস, বল নিয়ন্ত্রণ আর ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা এখনো অনন্য। এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর ছাপ রয়েছে। কখনো নিজেই গোল করেছেন, কখনো এমন পাস দিয়েছেন, যা থেকে গোল এসেছে। মাঝমাঠে নেমে খেলা গড়ে তোলা, প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে টেনে এনে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করা কিংবা হঠাৎ করেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া—সব মিলিয়ে তিনি এখনো আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

মেসির বড় শক্তি হলো তিনি শুধু গোল করেন না, পুরো ম্যাচের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করেন। কখন আক্রমণের গতি বাড়াতে হবে, কখন বল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত তিনি যেন মুহূর্তের মধ্যেই নিয়ে ফেলেন। পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে বড় ম্যাচের চাপ যেন তাঁকে আরও নিখুঁত করে তোলে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও তাঁর উপস্থিতিই আর্জেন্টিনার আক্রমণকে ধারালো করে তুলেছিল।

৮ গোল করা মেসির চেয়ে এই বিশ্বকাপে ২ গোল কম করেছেন হ্যারি কেইন। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ তৈরি করতেও ভূমিকা রাখছেন তিনি। বক্সের ভেতরে তাঁর ফিনিশিং যেমন নিখুঁত, তেমনি মাঝমাঠে নেমে বল ধরে রেখে উইঙ্গারদের খেলায় যুক্ত করার ক্ষমতাও তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।

কেইনের সবচেয়ে বড় গুণ হলো সুযোগ নষ্ট না করা। ম্যাচে হয়তো তিনি দীর্ঘ সময় চোখে পড়বেন না, কিন্তু একটি সুযোগ পেলেই সেটিকে গোলে পরিণত করার অসাধারণ দক্ষতা তাঁর আছে। ডিআর কঙ্গো, মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচগুলোতে তাঁর পারফরম্যান্সই ইংল্যান্ডকে শেষ চারে নিয়ে এসেছে।

দুই অধিনায়কের ফুটবল-দর্শনও একেবারে আলাদা। মেসি খেলেন শিল্পীর মতো। তিনি বল পায়ে নিয়ে পুরো ম্যাচের ছন্দ বদলে দিতে পারেন। তাঁর প্রতিটি স্পর্শে থাকে সৃজনশীলতার ছাপ। অন্যদিকে কেইন অনেক বেশি বাস্তববাদী। অযথা ড্রিবল বা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখানোর চেয়ে তিনি সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। একজন খেলা তৈরি করেন, অন্যজন সেটির শেষ পরিণতি নিশ্চিত করেন।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল সাধারণত নির্ধারিত হয় খুব ছোট ছোট মুহূর্তে। একটি নিখুঁত পাস, একটি ভুল, কিংবা একটি অসাধারণ ফিনিশই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের গল্প। সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন মেসি ও কেইন। একজন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে আরেকটি ফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন, অন্যজন ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার আরও কাছে নিয়ে যেতে চান।

সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার দুই সমর্থক গোষ্ঠীর সংঘর্ষ

‘আর্জেন্টিনার যে ভাইয়েরা মারা গেছেন, ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখলে তাঁদের কথা মনে পড়ে’

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল নির্ধারিত সময়ে শুরু হবে তো

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সজুড়ে উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ১৬০

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে মেসির ‘সৌভাগ্যের’ রেফারি, চলছে বিতর্কের ঝড়

যে একাদশ নিয়ে ইংলিশ পরীক্ষায় নামছে আর্জেন্টিনা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যুদ্ধের ডাক আর্জেন্টাইন সমর্থকদের

মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা ফাঁস করলেন ইংল্যান্ডের কোচ

ফ্রান্সকে হারিয়ে স্পেনের কোচ বললেন, ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে চাই

‘সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার ওপরই চাপ থাকবে’