হোম > খেলা > ফুটবল

এমন ম্যাচ কবে দেখেছিলেন আপনি

ক্রীড়া ডেস্ক    

শুরুতে এগিয়ে গেলেও হার নিয়ে ফিরতে হয়েছে বায়ার্নকে। ছবি: সংগৃহীত

শ্বাসরুদ্ধকর, রোমাঞ্চকর, দুর্দান্ত—পিএসজি এবং বায়ার্ন মিউনিখের ম্যাচটির জন্য এসব বিশেষণের কোনোটাই যথেষ্ট নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে দুই দলের থ্রিলার যেন ছাপিয়ে গেছে নিকট অতীতের সব লড়াইকে। পিএসজি-বায়ার্নের লড়াইয়ের পর একটা কথা বলা যেতেই পারে, সবশেষ এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচ কবে দেখেছেন আপনি?

দারুণ এক ম্যাচ যে হতে যাচ্ছে সে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল আগেই। রাখঢাকা না করে বরং একটু হুংকার দিয়েই পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে বলেছিলেন—এই মুহূর্তের তাদের চেয়ে ভালো দল আর নেই। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বায়ার্নও ছিল দারুণ ফর্মে। সব মিলিয়ে রোমাঞ্চ ছড়ানো এক ম্যাচের অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। ভক্তদের সে চাহিদা মিটিয়েছে পিএসজি-বায়ার্নের মাঠের লড়াই।

এনরিকের মুখ রেখেছে পিএসজি। নিজেদের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে বায়ার্নকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকেরা। জাতীয় দল কিংবা ক্লাব ম্যাচে ৮-৯ গোলের দেখা প্রায়ই মেলে। কিন্তু গোলসংখ্যা ছাপিয়ে মাঠের উত্তাপের কারণে পিএসজি-বায়ার্নের ম্যাচটি দীর্ঘ দিন মনে রাখবে রাত জেগে টিভি সেটের সামনে বসে থাকা দর্শকেরা। এক কথায় বলতে গেলে—পয়সা উসুল একটা ম্যাচই দেখেছে ফুটবলপ্রেমীরা।

বল দখলে বায়ার্ন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছে পিএসজি। প্রথমে গোল করে স্বাগতিক দর্শকদের তো চুপ করিয়েই ছেড়েছেন হ্যারি কেইন। ১৭ মিনিটে এই ইংলিশ স্ট্রাইকারের স্পটকিকে লিড নেয় সফরকারীরা। পিএসজির দর্শকদের অবশ্য বেশিক্ষণ মন খারাপ করে থাকতে হয়নি। দুর্দান্ত কামব্যাকে ৫৮ মিনিটেই ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্সের রাজধানী পাড়ার ক্লাবটি। পিছিয়ে পড়ে মুষড়ে না পড়ে এনরিকের ওই হুংকারের মর্মার্থ বুঝিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। ২৪ মিনিটে খিচা কাভারেসখেলিয়া পিএসজিকে ম্যাচে ফেরান; পরবর্তী আরও এক গোল করেছেন। এ ছাড়া জোড়া গোল করেন উসমান দেম্বেলে। একবার লক্ষ্যভেদ করে পিএসজির জয়ে অবদান আছে জোয়াও নাভাসেরও। পিছিয়ে পড়ে তিন মিনিটের ব্যবধানে দুইবার জালে বল জড়িয়ে লড়াই জমিয়ে তুলেছিল বায়ার্ন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই ফিরতে হয়েছে বুন্দেসলিগার প্রতিনিধিদের।

হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে বেশ কিছু রেকর্ডও হয়েছে। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সেমিফাইনালের এক লেগে ৯ গোল দেখল ফুটবল বিশ্ব। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো কোনো দল ম্যাচে ৪ গোল করেও হারের তিক্ত স্বাদ পেল। ইউরোপিয়ান কোনো প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে এর আগে উভয় দলকে ন্যূনতম ৪ বা তার বেশি গোল করতে দেখা যায়নি; সেটাই দেখা গেল পিএসজি-বায়ার্ন ম্যাচে। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ। এর আগে ২০২০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন-বার্সেলোনার ম্যাচে ১০ গোল হয়েছিল। সে ম্যাচে কাতালানদের ৮-২ গোলের লজ্জা দিয়েছিল বাভারিয়ানরা।

২০০৮ সালে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছেন এনরিকে। বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে পিএসজি ছাড়াও বার্সেলোনা, রোমা, সেল্টার মতো ক্লাবের ডাগআউটে বসেছেন। এ ছাড়া স্পেনের মতো ইউরোপ সেরা দলের কোচিং-ও করিয়েছেন। কোচিংয়ে ১৮ বছর পার করে দেওয়া এনরিকে পিএসজি-বায়ার্ন ম্যাচটিকে তাঁর দেখা ক্যারিয়ারসেরা ম্যাচ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বায়ার্নের বিপক্ষে জয়ের পর এনরিকে বলেন, ‘ক্যারিয়ারে আমি এত তীব্র গতির ম্যাচ দেখিনি। আমি তো এক কিলোমিটারও দৌড়াইনি। এরপরও ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। জানি না খেলোয়াড়দের এখন কী অবস্থা। আজকে দলের কোনো খুঁত বা ভুল ধরার সময় নয়। আজ কেবল সবাইকে অভিনন্দন জানানোর দিন। আমরা যেমন জেতার দাবিদার ছিলাম, তেমনি ড্র করা কিংবা হারার সম্ভাবনাও ছিল। কোনো সন্দেহ নেই, এটা আমার দেখা সেরা ম্যাচ।’

বিশ্বকাপের আগে প্রাইজমানি বাড়িয়ে চিন্তা দূর করল ফিফা

জিদানের ছেলেরও বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে সংশয়

আবাহনীর বিদায়, এলিমিনেটরে রহমতগঞ্জ

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ এবার তাহলে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ

পিএসজি-বায়ার্নের শেয়ানে শেয়ানে লড়াইয়ে জিতবে কে

ট্রাম্পকে দেওয়া শান্তি পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবি নরওয়ের

বিশ্বকাপের আগে গালের হাড় ভেঙে বিপাকে মদরিচ

মেসির সতীর্থ কি বার্সায় যোগ দেবেন

আইস হকির দেশে ফুটবলের জয়গান

বিশ্বকাপের আগে এমবাপ্পেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফ্রান্স