অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব বললেও যেন কম বলা হয়। নু স্টেডিয়ামে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে আজ যেখানে ইন্টার মায়ামির জয় তো নিশ্চিত মনে হচ্ছিলই। এমনকি কত গোল দিতে পারে, সেটার অপেক্ষাতেই ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু শার্লট এফসি যে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও লিওনেল মেসি-লুইস সুয়ারেজরা হার মেনেছে শার্লটের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে। গোলবন্যার ম্যাচে মেসির সঙ্গে রেফারির তর্কের একটি মুহূর্ত অনেকের নজরে এসেছে।
নু স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় সকালে অনুষ্ঠিত ইন্টার মায়ামি-শার্লট ম্যাচে ৬ গোলের রোমাঞ্চ ছাপিয়ে মেসির সঙ্গে দায়িত্বরত রেফারি রুবিয়েল ভাসকেজের সঙ্গে লেগে গেছে। ম্যাচের ৮৫ মিনিটের সময় মেসির সতীর্থ মাতিয়াস গালার্সার ফাউলের পরিপ্রেক্ষিতে শার্লট পায় ফ্রি কিক। তবে শুরুতে ভাসকেজ খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেসিদের বিপক্ষেই বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে যে বিল্ড-আপ তৈরি করেছিল মায়ামি, তা থামিয়ে দিতে হয়। রেফারির এমন সিদ্ধান্তে মেসি বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
৩-০ গোলে এগিয়ে থাকলে বেশির ভাগ সময় সেই দলের পক্ষেই পাল্লা ভারী থাকে। শার্লটের বিপক্ষে আজ এমএলএসে একটা পর্যায়ে এরকম অবস্থাতেই ছিল ইন্টার মায়ামি। বরং আরও বেশি গোল দিয়ে ব্যবধান কীভাবে বাড়িয়ে নিতে পারে দলটি, সেদিকেই চোখ থাকে। তবে আজ এত সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও জিততে পারেনি মায়ামি। এমএলএসের ইন্টার মায়ামি-শার্লট ম্যাচ ড্র হয়েছে ৩-৩ গোলে।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল শার্লট। তবে ৪ মিনিটের সময় করা দলটির ফরোয়ার্ড লিয়েল আবাদার গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনা করে বাতিল করে দেয়। ১৪ মিনিটে মায়ামি ডিফেন্ডার ইয়ান ফ্রে ম্যাচে গোলের হালখাতা খোলেন। ফ্রের গোলের উৎস মেসির কর্নার।
প্রথমার্ধের শেষভাগে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ইন্টার মায়ামি। এ সময়ই তিন গোলের তিনটিই করেছে দলটি। তিন গোল করেন তিন আলাদা ফুটবলার। যার মধ্যে ৩৩ মিনিটে সুয়ারেজ করেন দলের দ্বিতীয় গোল। আর রদ্রিগো দি পলের পা থেকে ৪২ মিনিটে আসে তৃতীয় গোল। মায়ামি প্রথমার্ধ শেষ করে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে।
প্রথমার্ধ যদি হয় ইন্টার মায়ামির, দ্বিতীয়ার্ধটা তবে শার্লটের। ৫০ থেকে ৫৫—এই ৫ মিনিটে জোড়া গোল করেন শার্লট ফরোয়ার্ড আবাদা। মায়ামি এরপর ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। ইয়ানিক ব্রাইট, কাসেমিরোরা সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। এমনকি ৬৮ মিনিটে সুয়ারেজ-মেসি জুটি বেঁধে যে গোলের পরিকল্পনা করেন, সেটাও ভেস্তে যায়। যেখানে সুয়ারেজের হেড থেকে শার্লটের লক্ষ্য বরাবর শট নেন মেসি। তবে মেসির নিশ্চিত গোল প্রতিহত করেছেন শার্লট গোলরক্ষক ক্রিস্টিয়ান কাহলিনা।
৩-২ গোলে ইন্টার মায়ামির জয় যখন সময়ের ব্যাপার, তখনই ঘুরে যায় খেলা। ৯০ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন রোদোলফো আলোকো। ইন্টার মায়ামি-শার্লট ম্যাচ ড্র হয় ৩-৩ গোলে। আর শেষ সময়ে রেফারির ওপর খেপে গেলেও মেসি কোনো কার্ড দেখেননি।
৩৪ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে মায়ামি। মেসির দল ১৬ ম্যাচ জিতেছে। ড্র করেছে ১২ ম্যাচ ও হেরেছে ৬ ম্যাচ। তিনে থাকা নিউ ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৫৮। ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে ন্যাশভিল। প্রত্যেকেই ৩৪টি করে ম্যাচ খেলেছে।