বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে দুই গোল করে রাতারাতি তারকা বনে গেছেন ফোলারিন বালোগান। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের ব্যবধানে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। বর্তমানে যিনি আমেরিকান, তাঁকে ইংলিশ বললেও ভুল হয় না, আবার নাইজেরিয়ানও বলা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, নাইজেরিয়া- তিন দেশের জার্সি গায়েই মাঠে নামার জন্য উপযুক্ত তিনি। তরুণ বয়সে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশেরই বয়সভিত্তিক দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। কিন্তু শেষমেশ বেছে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকে। জন্মসূত্রে তিনি আসলে আমেরিকা। জন্ম হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে, কিন্তু এক মাস পরই তাঁর পরিবার পাড়ি জমিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে। এরপর সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা-মা আবার নাইজেরিয়ার। এজন্য নাইজেরিয়ার হয়েও খেলার যোগ্যতা রয়েছে এই ফরোয়ার্ডের।
আর্সেনাল একাডেমীতে আট বছর বয়সে যোগ দিয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ শুরু করেন। যদিও সুবিধা করে উঠতে পারেননি। প্রথম একাদশেও স্থায়ী হতে না পেরে চলে যান মোনাকোতে। ফ্রান্সের ক্লাবটিতে যোগ দেয়ার মাস তিনেক আগে ২০২৩ সালে ফিফা তার আমেরিকার হয়ে খেলার ব্যাপারে সম্মতি দিয়ে। এরপর মার্কিনদের হয়ে ২৮ ম্যাচে ১১ গোল করেছেন ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ৩১ মিনিট ও প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের শেষের দিকে দুটি গোল করে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামের দর্শকদের উল্লাসে ভাসান তিনি। খেলা শেষে তার অনুভূতি নিয়ে বলেন, ’এটা সত্যিই স্বপ্নের মতো, এক স্বপ্নময় রাত। আমি এখনো পুরো বিষয়টা উপলব্ধি করে উঠতে পারিনি। আমার মনে হয়, যখন আমি হোটেলে ফিরে যাব, তখন এই মুহূর্তটাকে ভালোভাবে অনুভব করতে পারব এবং বুঝতে পারব যে এটি কতটা অসাধারণ একটি রাত।’
তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গর্ব করেছেন আরেকবার, ’যখন আমি (যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি) অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলাম, তখন থেকেই আমি সবসময় বলে এসেছি যে সমর্থকেরা আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমাকে অসাধারণ সমর্থন দেখিয়েছেন। আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবসময়ই ছিল সেই ঋণ শোধ করা। আমি শুধু সমর্থকদের দেখিয়ে যেতে চাই যে আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্পূর্ণ গর্বিত, এবং আমি চাই ভবিষ্যতেও সমর্থকদের গর্বিত করে যেতে।’
নিশ্চয়ই চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল দিয়ে আমেরিকানদের গর্বিত করেছেন বালোগান, হয়তো কিছু কিছু ইংলিশ ও নাইজেরিয়ানদেরও।