প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর হতাশা ভুলে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগাল। গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বের পথ সুগম করেছে রবার্তো মার্তিনেসের দল। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পর্তুগিজদের গোছানো ও গতিময় ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ফাবিও কানাভারোর শিষ্যরা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যার রেকর্ডময় জোড়া গোল পর্তুগালকে ম্যাচের শুরুতেই চালকের আসনে বসিয়ে দেয়।
ম্যাচের শুরু থেকে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয় পর্তুগাল। মাঝমাঠের চমৎকার সমন্বয়ে মাত্র সপ্তম মিনিটে প্রথম সাফল্যের দেখা পায় তারা। ডান প্রান্ত থেকে আসা একটি নিখুঁত পাস বক্সের ভেতর চমৎকার ফিনিশিংয়ে জালে জড়ান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য এক কীর্তি গড়েন তিনি। একই সঙ্গে এই গোল তাঁকে এনে দিয়েছে আরেকটি বিরল রেকর্ড। পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে একই সঙ্গে কনিষ্ঠতম (২০০৬ সালে ২১ বছর ১৩২ দিন বয়সে) এবং সবচেয়ে বয়স্ক (৪১ বছর ১৩৮ দিন) গোলদাতা এখন তিনিই।
শুরুর এই ধাক্কা উজবেকিস্তান সামলে ওঠার আগেই ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগিজরা। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে পাওয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে চমৎকার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয় তারা। ফ্রি-কিক নেওয়ার জন্য রোনালদোকে ডামি হিসেবে দাঁড় করিয়ে সরাসরি জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন পিএসজির ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস। পুরো ম্যাচেই রক্ষণ ও আক্রমণ—উভয় ভাগেই দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচের ২ মিনিটে গানিভের এক শটে উজবেকিস্তান ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ভিএআরের কারণে গোলটি বাতিল হয়। আক্রমণের শুরুতে জোয়াও কানসেলোর ওপর ফাউল হওয়ার কারণে রেফারি গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৩৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। ডি-বক্সে সঠিক সময়ে দারুণ এক রান করে গোলের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে যান তিনি। এর ফলে কিংবদন্তি ইউসেবিওর (৯) ৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন রোনালদো।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চাকা নিজেদের অনুকূলেই রাখে পর্তুগাল। ম্যাচের ৬০ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের নেওয়া একটি কর্নার থেকে বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে আত্মঘাতী গোল করে বসেন উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ। ফলে পর্তুগাল এগিয়ে যায় ৪-০ ব্যবধানে।
বড় ব্যবধানের লিড পাওয়ার পর কোচ মার্তিনেস তার বেঞ্চের শক্তি ঝালিয়ে নিতে দলে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন। জোয়াও ফেলিক্স, ভিতিনিয়া ও রুবেন নেভেসদের তুলে নিয়ে ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও, রাফায়েল লিয়াও ও বের্নার্দো সিলভাদের মাঠে নামানো হয়। ম্যাচের শেষ দিকেও আক্রমণের গতি সচল রাখে পর্তুগিজরা। ৮৬ মিনিটে ফের্নান্দেসের একটি দূরপাল্লার শট উজবেক গোলরক্ষক নেমাতোভ চমৎকার দক্ষতায় রুখে দিলেও এর দুই মিনিট পরেই আসে ম্যাচের শেষ গোলটি।
৮৮ মিনিটে রোনালদোর উদ্দেশে বাড়ানো একটি ক্রস প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে চলে আসে রাফায়েল লিয়াওয়ের পায়ে। চমৎকার এক ওয়ান-টাচ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই বদলি ফরোয়ার্ড। ফলে ৫-০ গোলের বড় জয় এবং দাপুটে এক পারফরম্যান্সের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগিজরা। যদিও শেষ দিকে কিছুটা আক্ষেপ ছিল রোনালদোর হ্যাটট্রিক পূরণ না করার।