প্রায় তিন বছর পর ব্রাজিলের হয়ে মাঠে ফিরলেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নেমে টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়লেন দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তাঁর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘ ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় দায়িত্বে ফিরে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা।
ম্যাচের আগে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছিলেন, নেইমারকে খেলানো হবে। তবে শুরুতে বেঞ্চেই ছিলেন সান্তোস তারকা। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাথিয়াস কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। তাঁকে মাঠে নামতে দেখেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। করতালিতে স্বাগত জানানো হয় নেইমারকে।
চোট ও দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কারণে অনেকদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন নেইমার। ডান পায়ের পেশিতে চোটের কারণে এক মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকার পর সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছিলেন। সেই প্রত্যাবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপে আবারও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তুললেন সাবেক অধিনায়ক।
ম্যাচে নেইমার সময় পেয়েছেন অল্পই। কিন্তু এটা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে নেইমারকে কাঁদতে দেখা যায়। জাতীয় দলে ফেরার পেছনের দীর্ঘ সংগ্রাম, চোট আর অপেক্ষার গল্প যেন সেই মুহূর্তে ফুটে ওঠে তাঁর অভিব্যক্তিতে। পরে মাঠের পাশে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে দেখা হলে আবেগঘন সেই দৃশ্য আনন্দে রূপ নেয়।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নেইমার বলেন, ‘আমি অবশ্যই এই দিনটিকে আমার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। কারণ ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি পরা প্রতিটি ছেলের স্বপ্ন। আমি দীর্ঘ সময় এই জার্সি পরেছি, এখানেই চোট পেয়েছিলাম, অনেক দিন দূরে ছিলাম। আমি এটাকে ভীষণভাবে মিস করেছি এবং ফিরে আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছি। আজ প্রায় তিন বছর পর আবার ফিরতে পেরেছি। আমি খুবই সুখী, আনন্দিত এবং আবেগাপ্লুত। সত্যিই আবেগে ভেসে গিয়েছিলাম।’
ড্রেসিংরুমে ফিরে গিয়েও কেঁদেছেন নেইমার, ‘ড্রেসিংরুমে একা বসে কেঁদেছি, কারণ আবার এসব অনুভূতি ফিরে পাওয়া ছিল এক বিশাল স্বস্তি। জাতীয় দলের জার্সি পরা, বিশ্বকাপে খেলা, এমনকি একদিন বিশ্বকাপ জেতা—এসবই সবসময় আমার স্বপ্ন ছিল। এই অভিজ্ঞতা অসাধারণ। আমাকে উৎসাহ দেওয়া প্রতিটি ব্রাজিলিয়ানকে এবং বিশেষ করে আমার পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই।’