অন্যান্য ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানদের সঙ্গে বিশ্বকাপের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতির অপেক্ষায় মেক্সিকো সিটিতে আটকে আছেন ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জিবরিল রাজৌব। উদ্বোধনী ম্যাচ দেখলেও, মার্কিন ভিসা না পাওয়া বা প্রত্যাখ্যাত হওয়া বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন এই বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
বার্তা সংস্থা এপিকে রাজৌব বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ফুটবলারদের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া বা এর অপব্যবহার করা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।’
ফিলিস্তিন দল বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও, বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ফিফা সব দেশের ফুটবলপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানায়। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত বছর সবাইকে স্বাগত জানানোর আশ্বাস দিলেও, এবার যুক্তরাষ্ট্র সোমালিয়ার রেফারি ও ইরাকি আলোকচিত্রীসহ বেশ কয়েকজন প্রতিনিধির প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করেছে। ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমাদের মানতে হবে, আমরা বিশ্বের রাজা নই যে সরকার এবং পুলিশ বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করব।’
যুক্তরাষ্ট্র গত বছর থেকেই ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারী এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মীদের ওপর নতুন ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি গত সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ভিসাও বাতিল করেছিল তারা।
এই ভিসা বিতর্ক ফুটবল বিশ্বের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আবারও সামনে এনেছে। রাজৌব এবং ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতির ক্লাবগুলোকে নিজেদের জাতীয় লিগে খেলতে দিয়ে ইসরায়েল ফিফার নিয়ম লঙ্ঘন করছে। এ ছাড়া গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৮০ শতাংশ ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংস এবং অন্তত ৫৬৫ জন খেলোয়াড় নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করে তারা ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি ইসরায়েলি ফুটবলপ্রধানের সঙ্গে হাত মেলাতেও অস্বীকার করেন রাজৌব। তিনি বলেন, এই সৌজন্যতা ক্ষত উপশম করবে না, বরং ইসরায়েলের অপরাধকে ধামাচাপা দেবে। রাশিয়ার ২০১৮ বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে রাজৌব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সে সময় আমন্ত্রিত অতিথিদের ওপর এমন কোনো ভিসা বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।