হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলে সহজ জয়ের রাতে ব্রাজিলের বড় নায়ক ফরোয়ার্ড মাথিয়াস কুনিয়া। শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই প্রথমার্ধে জোড়া গোল করে তিনি কোচের আস্থার শতভাগ প্রতিদান দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওরা পয়েন্ট হারানোয় কিছুটা চাপে থাকলেও, এই দাপুটে জয়ের পর স্বস্তি ফিরেছে।
মাঠের বাইরে কুনিয়ার রয়েছে সার্ফিংয়ের প্রতি এক তীব্র টান। যা একসময় স্রেফ শখ হিসেবে শুরু হলেও বর্তমানে তাঁর অবসরের রুটিনে বড় একটা জায়গা করে নিয়েছে। ব্রাজিলের সার্ফিং ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও কিংবদন্তি তারকা ইতালো ফেরেইরার সঙ্গে কুনিয়ার গভীর বন্ধুত্ব এই ভালোবাসারই এক অনন্য নিদর্শন।
কুনিয়া নিজেই জানিয়েছেন যে, ব্রাজিলের রিও গ্রান্দে দো নরতে এক ভ্রমণের সময় প্রথমবারের মতো সার্ফিংয়ের দুনিয়ায় তাঁর পা রাখা। সেখানে স্থানীয় সার্ফারদের সংস্পর্শে আসার পর বিশ্বখ্যাত সার্ফার ইতালো ফেরেইরার খুব কাছাকাছি আসেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি জোয়াও পেসোয়া থেকে এসেছি, আমি বাইয়া ফরমোসায় সার্ফিং শুরু করেছিলাম, আমি ওখানকার সবাইকে একটি বড় স্ক্রিনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সার্ফিং আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে, আমি ইতালোর খুব ভালো বন্ধু। আমি ফুটবলের চেয়ে সার্ফিং বেশি দেখি, এই তো ম্যাচের ঠিক আগেই আমি সাকুয়ারেমা দেখছিলাম। আমি তাদের সবসময় নিজের সঙ্গে রাখি।’
দলে ইগোর থিয়াগো ও এনদ্রিকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নিয়ে কুনিয়া বলেন, ‘ওটা সম্পূর্ণ স্বাধীন। প্রথম ম্যাচে আমি ওর (থিয়াগো) জন্য সমর্থন জুগিয়েছিলাম। প্রথম ম্যাচে আমি এনদ্রিকের জন্যও সমর্থন জুগিয়েছিলাম... আমি কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড নই, আনচেলত্তি আমাকে মাঠে ঘুরে খেলার অনেক স্বাধীনতা দেন। এই জার্সিটি যে দায়িত্ব বহন করে তা সত্ত্বেও আমি মূলত একজন ফলস নাইন। আমি আমার সেরাটা দিতে চাই।’
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আইকনিক ৯ নম্বর জার্সি গায়ে জড়ানো নিয়ে কুনিয়া বলেন, ‘এখানে কিছুদিন থাকার পর, আমার ক্লাবে এটি (গোল করা) স্বাভাবিক বিষয়। এটি খেলারই অংশ, জার্সির নম্বর যাই হোক না কেন, এখানে থাকার জন্য আমি যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত ছিলাম। বিশ্বকাপে ৯ নম্বর জার্সি পরা... আমি গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ হিসেবেই দেখি। এই নম্বরটি পরে খেলেছেন এমন অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড়দের দিকে তাকালে... এটি একটি বড় সম্মান। চাপ তো...’
কাতার বিশ্বকাপ খেলতে না পারলেও সেই ধাক্কা বেশ ভালোভাবে কাটিয়ে ওঠেন কুনিয়া, ‘আমি মনে করি সবকিছুর পর, আমরা আরও শক্ত এবং কিছুটা পরিপক্ক হয়ে উঠি, আমরা কেবল বর্তমান মুহূর্তে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি। যদিও আমি শুরুর একাদশে ছিলাম না, শুধু বিশ্বকাপে থাকাটাই অত্যন্ত গর্বের বিষয়। গত বিশ্বকাপে থাকার জন্য আমি যেকোনো কিছু করতে পারতাম, এবং এই বিশ্বকাপে থাকতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। আমি এটা নিয়ে খুবই খুশি।’