ভক্ত-সমর্থকদের হৃৎস্পন্দনের পরীক্ষা নিয়ে জেতা এখন আর্জেন্টিনা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে। কেপ ভার্দে, মিসর, সুইজারল্যান্ডের পর গত রাতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে লিওনেল স্কালোনির দল নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট। এবার আর্জেন্টিনার সামনে ব্রাজিল-ইতালির রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।
১৯ জুলাই নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলতে নামবে স্পেনের বিপক্ষে। এই ম্যাচ জিতলেই বিশ্বকাপের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা। এখন পর্যন্ত দুই দল বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পেরেছে। ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দীর্ঘ দুই যুগ পর এই কীর্তি গড়ে ব্রাজিল। ১৯৫৪, ১৯৫৮ সালে শিরোপা জেতে সেলেসাওরা।
লিওনেল স্কালোনি গত ৮ বছরে আর্জেন্টিনা দলটাকে দারুণভাবে গুছিয়ে তুলেছেন। ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২৪ কোপা আমেরিকা—গত ৫ বছরে আলবিসেলেস্তেদের এই চারটি শিরোপা জিতেছে। এ ছাড়া গত বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর টানা ১৩ ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। এই ১৩ ম্যাচেই আলবিসেলেস্তেরা দুই বা ততোধিক গোল করেছে।
কাতারে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ধ্রুপদী ফাইনাল জয়ের দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীরা চাইলেও ভুলতে পারবেন না। তবে স্কালোনির দল এবার সেটাকে নিয়ে গেছে শিল্পের পর্যায়ে। মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে ৩-২ গোলে জয়, গতকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ১ গোলে পিছিয়ে থেকে ২-১ গোলে জয়—এই দুটি ঘটনা তো রয়েছেই। এমনকি নবাগত কেপ ভার্দেকে হারাতেও ঘাম ছুটে যায় আর্জেন্টিনার। শেষ বত্রিশের ম্যাচটিতে আলবিসেলেস্তেরা জেতে ৩-২ গোলে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ গোলে জিতলেও ম্যাচটা গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে।
এবার আর্জেন্টিনার ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানগত পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা যাক। ৭ ম্যাচে করেছে ১৯ গোল। যার মধ্যে ১২টিতেই অবদান রয়েছে লিওনেল মেসি। ৮ গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ৪ গোলে। লাউতারো মার্তিনেস করেছেন ৩ গোল। এনসো ফের্নান্দেসের পা থেকে এসেছে ২ গোল। হুলিয়ান আলভারেস, জিওভান্নি লো সেলসো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, আলেক্সিস মাক আলিস্তার করেছেন একটি করে গোল।
অতীতের একটা পরিসংখ্যান দেখে হয়তো আর্জেন্টিনা একটু আঁতকে উঠতেই পারে। ইংল্যান্ড এর আগে যে দুইবার সেমিফাইনালে হেরেছে, সেবার সেমিতে জয়ী দলগুলোর একটি হয়েছে রানার্সআপ এবং অপরটি হয়েছে রানার্সআপ। নিজেদের ইতিহাসে ইংল্যান্ড একবারই ১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ১৯৯০ সালের সেমিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল জার্মানি। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জার্মানরা। এরপর ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া ফাইনালে উঠলেও তাদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স।
আটলান্টায় গতকাল সেমিতে ৫৫ মিনিটে ইংল্যান্ড গোল করেও শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতে উঠেছে ফাইনালে। হারের পর ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন বলেন, ‘আর্জেন্টিনা সেটা করে দেখিয়েছে এবং সেখান থেকে তারা আত্মবিশ্বাস পেয়েছে। গত কয়েকটি ম্যাচে আমরা বক্সের ভেতর খুব ভালোভাবে রক্ষণ করতে পেরেছি। আমরা ভেবেছিলাম এবারও সেটা করতে পারব। কিন্তু বক্সের ভেতরে আমরা যতটা শক্ত ও সংগঠিত থাকতে চেয়েছিলাম, ততটা থাকতে পারিনি।’
এবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইতালি, জার্মানির রেকর্ডে ভাগ বসাবে আর্জেন্টিনা। ইতালি, জার্মানি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। আর সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। আলবিসেলেস্তেরা তিনবার জিতেছে বিশ্বকাপ।