বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসর। এতটাই বাজে অবস্থা যে অধিকাংশ খেলোয়াড়দের বেতনও ক্লাবটি দিতে পারছে না। তাতে করে নতুন মৌসুমের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল।
সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘আল-রিয়াদিয়াহ’-এর গতকালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, তীব্র তারল্যসংকটে পড়েছে আল নাসর। অর্থসংকটে ক্লাবটি জুন মাসে প্রথম সারির খেলোয়াড়দের পুরো বেতন দিতে পারেনি। তাতে করে ক্লাবটির দৈনন্দিন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কেন এই তারল্য সংকট, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। মূল দলের প্রথম সারির ফুটবলাররা গত মাসের বেতনের আংশিক অর্থ বুঝে পেয়েছেন। বকেয়া পরিশোধ করতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আল নাসরের নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার কার্যক্রমও থেমে গেছে।
তারল্য সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে আল নাসরের দলবদল কার্যক্রমে। গত সপ্তাহে সৌদি ক্লাব থেকে চলে যান মার্সেলো ব্রোজোভিচ। ক্রোয়াট এই মিডফিল্ডারের বিদায় দলের জন্য বড় এক ধাক্কা ঠিকই। তবে আর্থিক সংকটের কারণে থেমে আছে ক্লাবটির নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার কার্যক্রম। ফলে চাইলেও বিকল্প খেলোয়াড় নিতে পারছে না আল নাসর।
সবচেয়ে বড় চাপে আছেন সদ্য আল নাসরের দায়িত্ব নেওয়া কোচ আনগি পোস্তেকোগলু। ২০২৬-২৭ মৌসুমে সৌদি প্রো লিগ, কিংস কাপ, সৌদি সুপার কাপ ও এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের মতো প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে খেলবে আল নাসর। আর্থিক জটিলতা না কাটলে তারকা ফুটবলার ছাড়াই খেলতে নামতে হবে পোস্তেকোগলুকে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে আল নাসরে যোগ দেন রোনালদো। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে মৌসুমপ্রতি তিনি ২৩.৫ কোটি ডলার পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ২৮৯৬ কোটি টাকা। তিনি সৌদি ক্লাবে নাম লেখানোর পর খেলোয়াড় কেনার পাশাপাশি অবকাঠামোগত খাতে প্রচুর বিনিয়োগও করছে। সাদিও মানে, কিংসলে কোমানের মতো তারকারাও ইউরোপীয় ফুটবল ছেড়ে আল নাসরে ভিড় জমিয়েছেন।