টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল আইসিসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিসিবি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাবে না সংস্থাটি।
নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি সামনে এনে ভারত থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল বিসিবি। তবে আইসিসি বরাবরই চেয়েছে, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাক বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা করেও বিসিবিকে সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনতে পারেনি আইসিসি। তাই ২১ জানুয়ারির বোর্ড সভা শেষে বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে বিসিবি সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানায় আইসিসি।
আইসিসির আলটিমেটামের ভিত্তিতে সময়ক্ষেপণ করেনি বিসিবি। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে চায় বাংলাদেশ। ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ হলে লিটন দাসের দলকে পাঠাবে বিসিবি। গতকাল রাতে বিসিবি তাদের অনড় সিদ্ধান্তের কথা আইসিসিকে জানিয়েছে। বিসিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভেন্যু বদলের ইস্যুতে আবারও আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। স্বাধীন তদন্ত কমিটির হস্তক্ষেপ চায় সংস্থাটি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে অনড় সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই যে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতের বিশ্বকাপ না খেলা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য দেশে গেলে সেখানে নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে তা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এখানে অন্য কারও বিবেচনার সুযোগ নেই। আমরা এখনো আশা ছাড়ি নাই। আশা করব আইসিসি আমাদের জেনুইন সিকিউরিটি রিস্ক সুবিবেচনার সঙ্গে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ করে দেবে। আমরা সেই আশাবাদে এখনো অপেক্ষা করছি।’
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে না রাখতে পারলে আয়োজক হিসেবে সেটি হবে ভারতের বড় ব্যর্থতা, এমনটি মনে করেন বুলবুল। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো ক্রিকেট লাভিং দেশ যদি আইসিসির ইভেন্টে না থাকে, তাদের মিস করবে। ক্রিকেট অলিম্পিকে যাচ্ছে, ২০৩২ অলিম্পিক ব্রিসবেন হোস্ট করছে। ২০৩৬ অলিম্পিক ভারত আয়োজন করতে চায়। (২০৩০) কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করছে—সেখানে যদি বাংলাদেশের মতো জনবহুল ক্রিকেট লাভিং কান্ট্রি না থাকে, তাদের দেশে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে, এটা মনে হচ্ছে যে আয়োজক দেশ হিসেবে একটা ব্যর্থতা (ভারতের)।’