মোস্তাফিজুর রহমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় যেন থামছেই না। বিষয়টি নিয়ে এখন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে দেশের ক্রিকেটেই। যেখানে জড়িয়েছে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক এবং দেশের ইতিহাসের সেরা ব্যাটারদের একজন তামিম ইকবালের নাম।
ভারতের কট্টরবাদী হিন্দু গোষ্ঠীর প্রতিবাদে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা বিসিসিআই। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাতে না তারা। নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলতে আইসিসিকে চিঠিও দিয়েছে বিসিবি।
গতকাল এক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচিত বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন তামিম। দেশের ক্রিকেটের স্বার্থ ও ভবিষ্যত বিবেচনা করে বিসিবিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এমন মন্তব্যের পর তামিমক ভারতের দালাল বলে মন্তব্য করেন বিসিবির পরিচালক এবং অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম।
তামিমকে এভাবে অসম্মান করায় নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। এদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন, মুমিনুল হকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। বাদ যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)। ক্ষোভ জানিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
তামিম ইস্যুতে কোয়াবের এমন অবস্থানের পর একটি প্রশ্ন সামনে উঠে আসছে; তাহলে মোস্তাফিজ আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর কেন চুপ ছিল কোয়াব? এই কথার জবাব দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তামিমকে নিয়ে বিসিবি পরিচালকের করা ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে কয়েকজন ক্রিকেটারকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন তিনি। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার জানান, মোস্তাফিজের বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক সংগঠনের (ডব্লিউসিএ) সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। কিন্তু বাঁ হাতি পেসার চাননি বলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মিঠুন বলেন, ‘ডব্লিউসিএ থেকে আমাদের নিশ্চিত করেছিল যে, যদি মোস্তাফিজ চায় তাহলে আইনজীবী দিয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে যতটুকু সম্ভব ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এটা নিয়ে পরে আমরা মোস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলি। এটা তো ওর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। মোস্তাফিজ বলেছে এটা আপাতত থাক। যদি প্রয়োজন হয় আমি জানাব। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা আর এগোয়নি।’
তামিমকে নিয়ে ওই বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যের প্রতিবাদ করে মিঠুন বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি দায়িত্বশীল কোনো জায়গায় যাঁরাই থাকেন তাদের আচরণবিধি থাকা উচিত। একজন সাধারণ মানুষ হয়ে যেকোনো কথা বলা যায়। কিন্তু যখন একটা দায়িত্বশীল জায়গায় বসে আছেন, আপনার অফিসে কিন্তু আপনার জবাবদিহিতা আছে। আপনি চাইলেই কিন্তু অনেক কিছু বলতে পারবেন না। এই বিষয়টা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এটা শুধু তামিম ইকবাল না, বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারকে নিয়েই এই ধরনের মন্তব্য করাটা উচিত না।’