ক্যালেব ফ্যালকনার লড়ে গেলেন নিঃসঙ্গ শেরপার মতো। একপ্রান্তে ঝড় তুললেও সতীর্থদের কাছ থেকে তেমন সহায়তা পাননি। পাঁচ নম্বরে নামা এই ব্যাটার যখন ইংল্যান্ডের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার পর ভারত তখন উল্লাসে ব্যস্ত। ষষ্ঠবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের আনন্দের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভারতীয় ডাগআউটে।
বেনোনিতে সবশেষ ২০২৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল ভারত। তবে সেবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭৯ রানে হেরে ভারত পুড়েছিল স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়। ঠিক তার পরের আসরেই ভারত করল বাজিমাত। আগে কখনো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩০০ রানই হয়নি, ভারত সেখানে করেছে ৪১১ রান। তাতেই শিরোপায় এক হাত দিয়ে ফেলে আয়ুশ মাত্রের নেতৃত্বাধীন ভারত। ব্যাটিংয়ে নেমে ফ্যালকনার ঝোড়ো সেঞ্চুরি করলেও (৬৭ বলে ১১৫ রান) ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ১০০ রানে হেরে গেছে।
৪১২ রানের পাহাড়সমান লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাণ্ডব চালিয়েছে ইংল্যান্ডও। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৭১ রান করে ইংলিশরা। তাতে ইংল্যান্ডের রানরেট তখন ৮.৫৫ ও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানরেট দাঁড়ায় ৮.০৩। তবে আশা জাগিয়েও ইংল্যান্ড জয়ের ধারেকাছেও জেতে পারেনি। হঠাৎ ধসে ২০.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৭৪ রান থেকে ২২ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৭ রানে পরিণত হয় ইংলিশরা।
দুই ওভারে ৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ইংল্যান্ড কত তাড়াতাড়ি গুটিয়ে যায়, সেটাই ছিল দেখার অপেক্ষা। ফ্যালকনারের কারণেই মূলত ম্যাচটা দীর্ঘায়িত হয়েছে। অষ্টম উইকেটে জেমস মিন্টুর সঙ্গে ৮০ বলে ৯২ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন ফ্যালকনার। ৬৩ বলে ফ্যালকনার তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ডের ইনিংস সর্বোচ্চ ১১৫ রান করেছেন তিনি। ৬৭ বলের ইনিংসে ৯ চার ও ৭ ছক্কা মেরেছেন তিনি। পাঁচ নম্বরে নামা ফ্যালকনার ইংল্যান্ডের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন কনিষ্ক চৌহানের বলে। ৪১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফ্যালকনার কাট শট খেলতে যান। হাওয়ায় ভেসে থাকা বল ডাইভ দিয়ে দারুণভাবে তালুবন্দী করেছেন খিলান প্যাটেল।
খিলান প্যাটেলের দুর্দান্ত ক্যাচেই ইংল্যান্ড ৪০.২ ওভারে গুটিয়ে যায় ৩১১ রানে। ভারতের বাঁহাতি পেসার আরএস অম্বরিশ ৯ ওভারে ৫৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এক ওভার মেডেনও দিয়েছেন তিনি। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন কনিষ্ক চৌহান ও দীপেশ দেবেন্দ্রন। এবারই প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে দুই দলই ৩০০ পেরিয়েছে।
হারারে স্পোর্টস ক্লাবে আজ ফাইনালের পুরো আলো কেড়ে নিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। ৮০ বলে ১৫টি করে চার ও ছক্কায় ১৭৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন সূর্যবংশী। তাতে যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের রেকর্ডটা তিনি নিজের করে নিলেন। ৫৫ বলে সেঞ্চুরি করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন তিনি। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৪১১ রান করেছে।
ভারতের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন অধিনায়ক মাত্রে। সূর্যবংশী, মাত্রে ছাড়া আর কোনো ব্যাটার ফিফটি করতে পারেননি। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে খরুচে বোলিং করেছেন লামসডেন। ৮ ওভারে ৮১ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। জেমস মিন্টু ৩ উইকেট নিলেও ৮ ওভারে ৬৩ রান খরচ করেছেন। ফাইনালসেরা, টুর্নামেন্টসেরা দুটি পুরস্কারই পেয়েছেন সূর্যবংশী। ৬২.৭১ গড় ও ১৬৯.৪৯ স্ট্রাইকরেটে এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩৯ রান করেছেন তিনি। তাঁর চেয়ে বেশি রান করেছেন ইংল্যান্ডের বেন মায়েস। ৭৪ গড় ও ১১২.৪০ স্ট্রাইকরেটে করেছেন ৪৪৪ রান। আর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সূর্যবংশী নিয়েছেন এক উইকেট।