ওয়ানডে ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মিলে মুমিনুল হক খেলেছেন ৩৪ ম্যাচ। ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণ টেস্টে তাঁর ৭৫ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাদা বলের ক্রিকেটের চেয়ে টেস্টে বেশি ম্যাচ খেলেছেন বলে টেস্ট ক্রিকেটার তকমা পেয়ে গেছেন তিনি। টেস্টে অসংখ্য রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। তবে মুমিনুলের মতে বাংলাদেশে শুধু টেস্ট ক্রিকেটার হয়ে থাকা দেশের ক্রিকেটের জন্য বাজে উদাহরণ।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আজ উত্তরাঞ্চল-পূর্বাঞ্চল ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন মুমিনুল। ৮২ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেও পূর্বাঞ্চলকে জেতাতে পারেননি তিনি। সাদা বলের ক্রিকেটে দারুণ ব্যাটিংয়ের পরও তাঁর নামের পাশে জুড়ে গিয়েছে ‘লাল বলের ক্রিকেটারের’ ট্যাগ। এটা কতটুকু বিপজ্জনক—সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘আমাকে যদি বলেন যে টেস্ট প্লেয়ারদের জন্য ভবিষ্যতে আপনার এরকম প্রশ্ন আসতে পারে যে আপনি টেস্ট প্লেয়ারদের জন্য কী বলবেন? আমি তো বলব কোনো মানুষের টেস্ট ক্রিকেটার হওয়া উচিত না। এরকম অবস্থায় গেলে টেস্ট প্লেয়ার হওয়া উচিত না। কারণ, আপনি সাদা বলে কোনো ম্যাচ খেলতে পারছেন না। আমার কাছে এটা একটা বাজে উদাহরণ।’
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে মুমিনুল এখন পর্যন্ত ১৬১ ও ১৭৯ ম্যাচ। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তুলনামূলক বেশি ম্যাচ খেলা মুমিনুলের মতে দেশে টেস্ট ক্রিকেটার তৈরির মতো অবকাঠামো নেই। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাদমান ইসলামের কথা উল্লেখ করেছেন। মুমিনুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছোটবেলায় যেমন আপনারা সবাই বলেন যে সবার একটা স্বপ্ন থাকে টেস্ট খেলার। সেই টেস্ট খেলার স্বপ্ন কারও থাকবে না তখন। সাদমান নামে এক ক্রিকেটার বা মুমিনুল নামে এক ক্রিকেটার যারা শুধু লাল বল খেলতে পারে। তাও পাঁচ মাস পর। আর সাদা বলে এখানে কোনো টুর্নামেন্টে অথবা বিপিএল হোক, কোনো টুর্নামেন্টে সে খেলতে পারে না। দিন শেষে তো আপনার আর্থিক ব্যাপারটা তো আসেই। এই জিনিসগুলো হলে তখন টেস্ট ক্রিকেটার বের হওয়ার সুযোগ নেই।’
বগুড়ায় টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া উত্তরাঞ্চল ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ৩৩৫ রান করেছে। টপ অর্ডারের দুই ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে এসেছে ৫৪ ও ৬৮ রান। ছয় নম্বরে নামা আকবরের ৮৭ বলে ৮ চার ও ৬ ছক্কায় ১১১ রানের ইনিংসই পার্থক্য করে দিয়েছে। জবাবে পূর্বাঞ্চল ৪৯.৪ ওভারে ২৮১ রানে গুটিয়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলের রিশাদ হোসেন ৪ উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন তাঁর সতীর্থ আকবর।
রাজশাহীতে অপর ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ-আফিফরা। কেন দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিকেটাররা কালো আর্মব্যান্ড পরলেন, সেই ব্যাখ্যায় আফিফ বলেন, ‘এটা (কালো আর্মব্যান্ড) আমার মেহেদী ভাই কাছের এক বড় ভাই। তাঁর আম্মা মারা গেছেন। সেজন্য কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলেছি।’ মধ্যাঞ্চলের দেওয়া ২৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২৭ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জিতেছে দক্ষিণাঞ্চল। আফিফ ৮৬ বলে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ১০০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন।