ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন ঐতিহাসিক টেস্ট ইনিংস খেলার পর সাংবাদিক সম্মেলনে তাওহীদ হৃদয়ের অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। তবে সেদিন সংবাদ সম্মেলনে আসেননি তিনি, এসেছিলেন দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। আজ সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের নির্বিষ বোলিংয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন হৃদয়। তাঁকে পেয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের ধরনেও ছিল ভিন্নতা।
সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের ব্যাটিং, ইনিংসের পরিকল্পনা, সাদা বল থেকে লাল বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়া এবং ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস নিয়ে কথা বলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২৪২ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
এটিই তাঁর ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস কিনা–এমন প্রশ্নের জবাবে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসা হৃদয় বললেন, ‘না, আমার কাছে যদি জানতে চান, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে টানা তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলাম। আমার কাছে এখনো সেটিই বিশেষ মনে হয়। হয়তো সেটি অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের অর্জন, তবে টানা তিনটি সেঞ্চুরি আমার কাছে এখনো স্পেশাল। আলহামদুলিল্লাহ।’
২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে যুব ওয়ানডে সিরিজে টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন তাওহীদ হৃদয়। তিন ইনিংসে তাঁর মোট সংগ্রহ ছিল ৩৪৯ রান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৩ রানের অপরাজিত ইনিংসটি খেলেছিলেন ৯৮ বলে।
প্রথম ইনিংসে পাল্টা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা নিয়ে হৃদয় জানান, সেটিকে ঠিক পাল্টা আক্রমণ বলা যাবে না। প্রতিপক্ষের বেশির ভাগ ফিল্ডার বাউন্ডারিতে থাকায় রান তুলতে ওপর দিয়ে শট খেলা ছাড়া উপায় ছিল না। তাই সিঙ্গেল নেওয়ার বদলে সঠিক বল ও বোলার বেছে নিয়ে নির্দিষ্ট বোলারকে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
সাদা বলের ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত হলেও লাল বলের ক্রিকেটে নিজের সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন হৃদয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও টেস্টে শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর না হলেও এখন ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করতে চান না তিনি। বরং নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন এই ব্যাটার। হৃদয় বলেন, ‘আগে হয়তো অনেক চিন্তা করতাম, কী হবে না হবে। সত্যি বলতে, এখন আর সেভাবে চিন্তা আসে না। সবকিছু তো সেট করাই আছে। আমার হাতে যেটা আছে, সেটা হলো সঠিকভাবে অনুশীলন করতে পারছি কি না, কঠোর পরিশ্রম করতে পারছি কি না। আমার কাছে এটাই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার।’
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও টেস্টে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি নিজের আদর্শ মুশফিকুর রহিমের সর্বোচ্চ ইনিংসও ছাড়িয়ে যান হৃদয়। এই অর্জনে মুশফিকের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন তিনি। হৃদয় জানান, তাঁর পারফরম্যান্সে মুশফিক অনেক খুশি হয়েছেন। শুধু তাঁকেই নয়, দলের যেকোনো ক্রিকেটার ভালো খেললে সব সময় সমর্থন ও উৎসাহ দেন মুশফিক।
নিজের এই ইনিংস ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেও মনে করেন হৃদয়, ‘সত্যি কথা বলতে, এই ইনিংসটা অবশ্যই ভালো লাগা এবং সামনে আমাকে আত্মবিশ্বাস দেবে। তবে স্পেশাল বলতে গেলে, কোন ইনিংসটা আমার কাছে বিশেষ, সেটা নির্দিষ্ট করে বলতে চাচ্ছি না।’