ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ওয়ানডে জেতার পর বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। নিউজিল্যান্ড সিরিজ শুরুর আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানিয়েছিলেন, ব্যাটিং নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তা অনেক কমে গেছে। কিন্তু মিরপুরে আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দেখা গেল পুরো উল্টো। ২৪৮ রানের লক্ষ্যও তাড়া করতে পারল না স্বাগতিকেরা।
আইপিএল, পিএসএলের কারণে প্রথম সারির ক্রিকেটারদের ছাড়াই বাংলাদেশে এসেছে নিউজিল্যান্ড। জানুয়ারিতে সবশেষ ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডের একাদশের তিন ক্রিকেটার টম লাথাম, উইল ইয়াং ও হেনরি নিকোলস আছেন বাংলাদেশ সিরিজের দলে। যাঁদের মধ্যে অধিনায়ক লাথাম ১৬৪ ওয়ানডে খেলেছেন। আর কারও ১০০ ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার আইপিএলে ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লাথাম।
নিউজিল্যান্ডের অনভিজ্ঞতার ছাপ দেখা গেছে আজ প্রথম ওয়ানডেতেও। টস হেরে আগে ব্যাটিং পেয়ে ধীরস্থির শুরু করে কিউইরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে করে ২৪৭ রান। হেনরি নিকোলস (৬৮),ডিন ফক্সক্রফটের (৫৯) রানের পর ইনিংসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন ইয়াং। বোলারদের জায়গা থেকে তাঁরা যথেষ্ট করেছেন। রিশাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। যাঁদের মধ্যে শরীফুল ১০ ওভারে খরচ করেন ২৭ রান। দিয়েছেন ২ ওভার মেডেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা।
ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিং বিভাগেও নিউজিল্যান্ড ছিল এলোমেলো। সফরকারীদের কাছ থেকে ২২ রান উপহার পেয়েছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে ছিল ২০ ওয়াইড, এক নো বল ও এক ওয়াইড। কিন্তু ব্যাটাররা যদি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারেন, তাহলে কী আর করার!
২৪৮ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশ ২১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন সাইফ হাসান-লিটন দাস। কিন্তু থিতু হয়ে সাইফ উইকেটটা ছুড়ে এসেছেন। ৭৬ বলে করেছেন ৫৭। ওয়ানডে এটা তাঁর দ্বিতীয় ফিফটি। সাইফ আউট হওয়ার পর খেই হারায় বাংলাদেশ। ২৪৮ রানের লক্ষ্যে নেমে ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। এই ২৯১ বলের মধ্যে ১৬৬ বলই ডট খেলেছে। পাঁচ নম্বরে নামা তাওহীদ হৃদয় শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হলেও তাঁর ৫৫ রানের ইনিংস কোনো কাজে আসেনি।
সাইফের মতো লিটনও উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন। লিটনের ব্যাটে তো তাও ৪৬ রান এসেছে। কিন্তু মিডল অর্ডারে আফিফ হোসেন ধ্রুব (২৭), অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ (৬) কেউই প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারেননি। এমনকি তাঁদের (আফিফ-মিরাজ) স্ট্রাইকরেট ছিল ৫০-এর চেয়েও কম। ২৬ রানে হারের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিরাজ বলেন, ‘আমার মতে বোলিং ভালো হয়েছে। এই উইকেটে রান তাড়া করা কঠিন কিছু নয়।’
ইনিংসের নবম ওভারেই নিউজিল্যান্ডকে বড় ধাক্কা দেওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। ২৯ রানে ১ উইকেট হারানো কিউইদের দ্বিতীয় উইকেটের পতন হতে পারত তখনই। শরিফুল ইসলামের বলে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে এজ হয়েছিলেন ওপেনার উইল ইয়ং। কিন্তু দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সাইফ হাসান সেই সহজ ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি। তখন ইয়ংয়ের রান ছিল মাত্র ১। জীবন ফিরে পেয়ে তিনি পরে ৩০ রান যোগ করে ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন।
ইনিংসের শেষ ভাগে এসেও ক্যাচ মিস করেছে বাংলাদেশ। ৩৯তম ওভারে রিশাদ হোসেনকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মিস করেন ডিন ফক্সক্রফট। বল যখন হাওয়ায় ভাসছিল, তখন বাঁ দিকে ঝাঁপিয়েও সেটি ধরতে ব্যর্থ হন তানজিদ হাসান তামিম। ২৭ রানে জীবন পাওয়া ফক্সক্রফট শেষ পর্যন্ত ৫৯ রানের ইনিংস খেলে কিউইদের স্কোর ২৪৭ পর্যন্ত নিয়ে যান। ব্যাটারদের পাশাপাশি ফিল্ডারদেরও দুষছেন মিরাজ, ‘বোলাররা তাদের আটকে রাখতে দারুণ কাজ করেছে। কিন্তু যদি আমরা ওই দুটো ক্যাচ নিতে পারতাম, তাহলে তাদের ২০০ রানের নিচে আটকে রাখা যেত। ওটাই আমাদের বড় ভুল ছিল।’