দিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণে শঙ্কা তৈরি হয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ নিয়ে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি আয়োজন করতে অপারগতার কথা জানিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছে দিল্লি ও জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (ডিডিসিএ)।
সূত্রের বরাতে ক্রিকবাজ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ আয়োজন করতে না পারার পেছনে একাধিক কারণ উল্লেখ করে বিসিসিআইকে চিঠি দিয়েছে ডিডিসিএ। এর মধ্যে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। এ ছাড়া অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সংস্কারকাজ চলায় ম্যাচ আয়োজন নিয়েও জটিলতা রয়েছে।
তবে সংস্কারকাজের চেয়ে দিল্লির বায়ুমান নিয়ে বেশি চিন্তিত ডিডিসিএ। বছরের এই সময়ে রাজধানীতে বায়ুদূষণ সাধারণত ভয়াবহ রূপ নেয়। গত বছরের ডিসেম্বরে দিল্লির গড় বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ৩৫১। চলতি বছরের ২ নভেম্বরও প্রায় একই ধরনের দূষণ পরিস্থিতি দেখা গেছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবার কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না সংস্থাটি।
এ বিষয়ে ক্রিকবাজকে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র বলেন, ‘সংস্কারকাজের চেয়েও দিল্লির একিউআইয়ের কারণে আমরা ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।’
দিল্লিতে বায়ুদূষণের কারণে ক্রিকেটারদের ভোগান্তির পুরোনো অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার একটি টেস্ট ম্যাচে বায়ুদূষণের কারণে শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ক্রিকেটারকে মাঠে বমি করতে দেখা গিয়েছিল। ডিডিসিএ এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায়। এ কারণে আগামী বছর অন্য কোনো সময়ে একটি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ১৩ ডিসেম্বর দিল্লিতে হওয়ার কথা। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ ১৬ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুতে এবং তৃতীয় ম্যাচ ১৯ ডিসেম্বর আহমেদাবাদে নির্ধারিত রয়েছে। দিল্লি থেকে ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হলে বিসিসিআইকে নতুন করে সিরিজের সূচি সাজাতে হবে।
এর আগে ম্যাচটির ভেন্যু পরিবর্তনের খবর নাকচ করে দিয়েছিলেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। গত ১২ অক্টোবর তিনি জানিয়েছিলেন, দিল্লি থেকে ম্যাচটি আহমেদাবাদে সরিয়ে নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত বোর্ড নেয়নি।
সাইকিয়া বলেছিলেন, ‘দিল্লিতে নির্ধারিত ভারত-শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে ম্যাচটি আহমেদাবাদে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে, এমন প্রতিবেদন সঠিক নয়। বিসিসিআই এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সূচি সংক্রান্ত যেকোনো হালনাগাদ তথ্যের জন্য আমরা সংবাদমাধ্যমের সহকর্মীদের বিসিসিআইয়ের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি এটিও মনে রাখা প্রয়োজন, দ্বিপক্ষীয় ম্যাচগুলো মূলত একটি নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই বরাদ্দ দেওয়া হয়।’