আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৭ বছর পার করে ফেলেছে আফগানিস্তান। মোহাম্মদ নবি, মুজিব উর রহমান, রশিদ খান, আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের মতো তারকারা বিশ্ব ক্রিকেটে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। কিন্তু ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আফগানিস্তানে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়নি। তবে সদ্য নিয়োগ পাওয়া রিচার্ড পাইবাস যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশে গিয়েই কাজ করতে খুব আগ্রহী।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে বিদায়ে জোনাথন ট্রটের প্রধান কোচ হিসেবে মেয়াদও ফুরিয়েছে। নতুন কোচ হিসেবে পাইবাসকে নিয়োগ দিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। যাঁর এক সময়ে বাংলাদেশকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে সাধারণত বিদেশি কোচেরা সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারতে অনুশীলন ক্যাম্প করান। তবে এবার কোচ নিয়োগ দেওয়ার আগে নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন আনে এসিবি। নতুন কোচদের আফগানিস্তানেই কোচিংয়ের কাজ করতে হবে।
আফগানিস্তানে গিয়ে কোচিং করাতে পাইবাসের কোনো আপত্তি আছে কি না—কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল। ক্রিকবাজকে তখন বলেন, ‘না। আমার তাতে (আফগানিস্তানে গিয়ে কোচিং করাতে) কোনো আপত্তি নেই। বিশ্বের অনেক জায়গায় থেকেছি। এই দেশে (আফগানিস্তান) গিয়ে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছি।’
মার্চে শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়ে শুরু হবে আফগানিস্তানের পথচলা। তবে পাইবাসের যে তর সইছে না। নবনিযুক্ত এই আফগান কোচ বলেন, ‘আফগানিস্তান সম্পর্কে অনেক ভালো কথা শুনেছি। তাদের ক্রিকেট সংস্কৃতি আমি খুব পছন্দ করি। ক্রিকেটকে দেশটি কীভাবে মূল্যায়ন করে, তা কাছ থেকে দেখতে হবে। নিজেদের দিনে আফগানিস্তান বিশ্বের অনেক দলের চেয়ে দুর্দান্ত।’
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছিল আফগানিস্তান। যা এখন পর্যন্ত দেশটির ইতিহাসে আইসিসি ইভেন্টে বড় সাফল্য। তার আগে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও আফগানরা দুর্দান্ত খেলেছিল। এবার পাইবাস দেশটির তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে খুঁজে বের করে আনতে চান। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের পারফরম্যান্স দেখেছি। দেশটির প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখার বিষয়টি আসলেই দারুণ বিষয়। প্রদেশগুলোতে ঘুরে ঘুরে ক্রিকেটার খুঁজে বের করতে চাই। নির্বাচকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। সিরিজের সময় সাধারণত তাদের (ক্রিকেটার) উন্নতি নিয়ে কাজ করা যায় না। ক্রিকেটার তৈরির কাজ করতে হয় পর্দার আড়ালে।’
এর আগে ২০১২ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন পাইবাস। তবে বিসিবির সঙ্গে চুক্তির শর্ত নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় মাত্র পাঁচ মাস পরেই তিনি পদত্যাগ করেন। এবার আফগানিস্তানের সঙ্গে কোচিং অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের এই সাবেক কোচ। প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কাকে এবারই আফগানিস্তান আতিথেয়তা দিচ্ছে। ১৩, ১৫ ও ১৭ মার্চ হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ওয়ানডে সিরিজও তিন ম্যাচের। ২০, ২২ ও ২৫ মার্চ হবে তিনটি ওয়ানডে।