বাঁহাতের স্লোয়ার-কাটারে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করতে ওস্তাদ মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ করে ডেথ ওভারে যখন ব্যাটারদের হাত খুলে খেলার সময়, তখনই তাঁদের খোলসে পুড়ে ফেলেন তিনি। এবার তাঁকে ছাড়াই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ।
৩৩ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে গত বছর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ছিলেন রিশাদ হোসেন। এই তালিকায় দুই নম্বরে থাকা মোস্তাফিজ পেয়েছিলেন ২৬ উইকেট। খেলেছিলেন ২০ ম্যাচ। ইকোনমি ছিল ৬.০৯। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক লিগ টি-টোয়েন্টিতেও (আইএল টি-টোয়েন্টি) তিনি ছিলেন দুর্দান্ত।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়েও মোস্তাফিজের অবদান অপরিসীম। যেখানে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডেতে তিনি না খেললেও তৃতীয় ওয়ানডেতে ফিরে ৫ উইকেট নিয়েছেন। আজ সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজের মতো বোলার না থাকায় চিন্তিত টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসও। একই সঙ্গে তাঁর বিকল্প প্রস্তুত রাখতে দলে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে চট্টগ্রামে আজ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন লিটন। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বলেন, ‘মোস্তাফিজ তো মোস্তাফিজই। তার গ্যাপ পূরণ করা কঠিন। যেদিন মোস্তাফিজ খেলবে না, কোনো কারণে চোটে পড়লে কাউকে তো খেলতে হবে। সেজন্যই এই দলটা বানাতে চাইছি। এখন যাঁরা আছে, তারা ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। মোস্তাফিজ না হলেও তাদের কাছাকাছি যেতে পারবে।’
মোস্তাফিজের মতো নাহিদ রানা-তাসকিন আহমেদের মতো তারকা পেসারও নেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির দলে। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডাক পেয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। গত বছর রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের পর এ বছরের বিপিএলেও দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। বোলিংয়ের পাশাপাশি শেষের দিকে নেমে ক্যামিও ইনিংসও খেলতে পারেন সাকলাইন। তরুণ এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারকে নিয়ে লিটন বলেন, ‘সাকলাইন আমার চোখে অলরাউন্ডার। বিপিএলে ভালো খেলেছে। এ কারণেই দলে আসা। চেষ্টা করব তাকে দলের সঙ্গে রেখে রেখে যেন আরও উন্নত করা যায়।’
আইপিএল, পিএসএলের কারণে মিচেল স্যান্টনার, ড্যারিল মিচেল, রাচীন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপসদের মতো প্রথম সারির ক্রিকেটারদের নিয়ে আসতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি দুই সিরিজেই কিউইদের অধিনায়ক টম লাথাম। তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৯ ম্যাচ খেলেছেন। আর বাংলাদেশ সিরিজের দলে থাকা ইশ সোধি নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে সর্বোচ্চ ১৪০ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।
লাথাম, সোধি ছাড়া বেভান জ্যাকবস, নিক কেলি, ডেন ক্লিভার, মুহাম্মদ আব্বাস, জশ ক্লার্কসন, ডিন ফক্সক্রফটদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। এ ছাড়া সবশেষ ভারত সফরে দুর্দান্ত বোলিং করা ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক চোটে পড়ায় বাংলাদেশ সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন। সফরকারীদের নিয়ে লিটন বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড বড় দল। বিশ্ব ক্রিকেটে চিন্তা করলে তাদের রেকর্ড সবসময় ভালো। শেষ বিশ্বকাপেও ভালো খেলেছে। হয়তো তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করছে। তাদের অবশ্যই সামর্থ্য আছে দেখেই ভালো করছে। সংস্করণটাই এমন যে দুই ব্যাটার, দুই বোলার খেললেই দল জিতে যাবে।’
চট্টগ্রামে আগামীকাল শুরু হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। একই মাঠে ২৯ এপ্রিল হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ২ মে হবে মিরপুরে। সবশেষ বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি খেলেছে গত বছরের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।