এই বিশ্বকাপের বড় বিস্ময় জিম্বাবুয়ে! যাদের গোনায় ধরেনি কেউ, সেই জিম্বাবুয়ে গ্রুপপর্বে ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার মতো দলকে হারিয়ে সুপার এইটে উঠে আসে গ্রুপসেরা হয়ে। তবে এই রাউন্ডে শুরুর ম্যাচেই বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে তারা। তাদের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে তুলেছে ২৫৪ রান, যা এই বিশ্বকাপে দলীয় সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপের ইতিহাসেই এটি ক্যারিবীয়দের সর্বোচ্চ রান।
এই ম্যাচ জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হতো জিম্বাবুয়েকে। কারণ, এত বড় স্কোর তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই আর কোনো দলের। তবে পারেনি সিকান্দার রাজার দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৭.৪ ওভারে ১৪৭ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ১০৭ রানে।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ২১ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন ব্র্যাড ইভান্স। বল হাতে সবচেয়ে সফল গুডাকেশ মোটি; ২৮ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে টস জয়ের হাসিটা হেসেছিল জিম্বাবুয়েই। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন গ্রুপপর্বে অপরাজিত থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। শেষ পর্যন্ত বড় স্কোর গড়লেও ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তৃতীয় ওভারেই এনগাভারার শিকার হয়ে ফিরে যান ব্রেন্ডন কিং (৯)। শুরুর এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পাওয়ারপ্লেতেই ব্যক্তিগত ১৪ রান করে ফিরে যান অধিনায়ক শাই হোপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ককে ফিরিয়েছেন ব্র্যাড ইভান্স। এতে একটা রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে টানা ২৮ ইনিংসে উইকেট পেলেন তিনি। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে যে রেকর্ড নেই আর কারও।
ষষ্ঠ ওভার শেষের আগেই ৫৪ রানে ২ উইকেটের পতনের পর যেমন একটা জুটির দরকার ছিল, ঠিক তেমনি সময়োপযোগী একটা জুটি দাঁড় করান অভিজ্ঞ দুই ক্যারিবিয়ান শিমরন হেটমায়ার ও রোভম্যান পাওয়েল। ব্যাট হাতে বেধড়ক পিটিয়েছেন জিম্বাবুইয়ান বোলারদের। ৯ রানে একবার জীবন পেয়েছিলেন হেটমায়ার। এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্যাট হাতে তিনি এতটাই আগ্রাসী ছিলেন যে মাত্র ১৯ বলেই ৪টি চার ও ৫টি ছয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে এটিই ক্যারিবীয় কোনো ব্যাটারের দ্রুততম ফিফটি। উইকেটে তাঁর সঙ্গী পাওয়েলও ফিফটি পেয়েছেন, তবে ৪টি চার ও ৩টি ছয়ে ফিফটি করতে তিনি খেলেছেন ২৯টি বল। দুজনেই শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন। তবে ছিন্ন হওয়ার আগে এই জুটি দলকে দুরতিক্রম্য একটি স্কোরের ভিত গড়ে দিয়ে যান। মাত্র ৫২ বলে ১২২ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। হেটমায়ারকে ফিরিয়ে এই জুটি ছিন্ন করেন ক্রেমার। আউট হওয়ার আগে ৩৪ বলে ৮৫ রান করেন হেটমায়ার। সমান ৭টি চার ও ছয়ে সাজানো তাঁর ইনিংসটির স্ট্রাইকরেট—২৫০.০০! আর রভম্যান পাওয়েল সমান ৪টি চার ও ছয়ে ৩৫ বলে ১৬৮.৫৭ স্ট্রাইকরেটে করেন ৫৯ রান। এই বিশ্বকাপের রেকর্ড ২৫৪ রানের স্কোর গড়তে শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ডের ১০ বলে ২১ কিংবা জেসন হোল্ডারের ৪ বলে ১৩ রানও অবদান রেখেছে। এনগাভারা ও মুজারাবানি নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
২৫৪ রান সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। সর্বোচ্চ ২৬০/৬; ২০০৭ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে এই রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা।