এ যেন অনকেটা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে জয়টাই যেখানে ধরা দিচ্ছিল না, সেখানে সিরিজ জেতা তো স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু ছিল বাংলাদেশের জন্য। সে স্বপ্নই এবার সত্যি হয়েছে। টানা দুই ম্যাচ জিতে প্রথমবার অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়টা এসেছিল ২০০৫ সালে; কার্ডিফে। এরপর গুনে গুনে দীর্ঘ ২১ বছর পর দ্বিতীয় জয়টা ধরা দিল চলমান সিরিজের প্রথম ম্যাচে। সেই জয়কে পুঁজি করে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচেও সফরকারীদের হারিয়ে দেয়। এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জেতা বাংলাদেশের সামনে এবার আরও বড় কিছুর হাতছানি। প্রথমবার সিরিজ জেতার পর এবার মাইটি অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করার সুযোগ মেহেদী হাসান মিরাজের দলের সামনে।
সিরিজ হারের পর বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া যখন ধবলধোলাইয়ের লজ্জা এড়াতে মরিয়া, তখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ই অনেক বড় অর্জন স্বাগতিকদের জন্য। তার ওপর জশ ইংলিসের দলকে ধবলধোলাই করতে পারলে তো কথাই নেই। টানা দুই জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা বাংলাদেশ দলের লক্ষ্যও তেমনটাই। অতিথিদের টানা তৃতীয় হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা দিতেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে তেমন কথাই শোনালেন সৌম্য সরকার।
অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করতে পারলে সেটা বাংলাদেশের জন্য কত বড় অর্জন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সৌম্য বলেন, ‘অবশ্যই অনেক বড় হবে। যখন সিরিজ জিতেছি, এটাই অনেক বড় অর্জন। এটাই অনেক বড়ভাবে উদ্যাপন করা উচিত ছিল। ৩-০ ব্যবধানে জিততে পারলে আরও বড় অর্জন হবে। আমাদের সবার লক্ষ্যও থাকবে এটা। ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব। যারা তিন বিভাগেই ভালো করবে, তারাই জিতবে।’
একটা সময় স্পিন সহায়ক উইকেটের ওপর নির্ভরশীল ছিল বাংলাদেশ। স্লো, টার্নিং উইকেটে নিজেদের মাঠে অনেক বড় দলকে হারিয়েছে। তবে প্রেক্ষাপট এখন ভিন্ন। সবশেষ কয়েকটা সিরিজ সে সাক্ষ্যই দিচ্ছে। স্পিনারদের পরিবর্তে বোলিংয়ে বাংলাদেশের শক্তির জায়গা এখন পেসাররা। নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান সিরিজের পর একই চিত্র দেখা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। প্রথম দুই ওয়ানডেতে অতিথিদের পতন হওয়া ১৭ উইকেটের ১৩টাই নিয়েছেন পেসাররা। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, নাহিদ রানা, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদদের সামনে রীতিমতো সংগ্রাম করছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। সৌম্যর মুখেই তাই পেসারদের প্রশংসা ধ্বনি বের হলো।
এই প্রসঙ্গে সৌম্য বলেন, ‘আমার দেখা যেটা, অন্যতম সেরা পেস বোলিং ইউনিট আমাদের-যেকোনো কন্ডিশনে, যেকোনো দেশে। যেকোনো দল আমাদের সঙ্গে খেলতে গেলে অবশ্যই চিন্তা করবে। আমাদের যে অ্যাটাক আছে তাদের নিয়ে। বাইরে খেলতে গেলেও চিন্তা করবে ফাস্ট বোলিং বান্ধব পিচ বানাব কি না। খুব ভালো সময় যাচ্ছে পেসারদের, এত ভালো করছে। উইনিং রেশিওতে আগে স্পিন অনেক সহায়তা করত, এখন যেটা ফাস্ট বোলাররা করছে।’