প্লে অফ সামনে রেখে ক্রিস ওকসকে দলে নিয়েছে সিলেট টাইটানস। আজ এলিমিনেটরে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিপিএলে অভিষেক হয় সাবেক এই ইংলিশ অলরাউন্ডারের। অভিষেকেই শেষ বলে ছক্কা মেরে সিলেটকে জিতিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। ওকস জানালেন, তাঁর বিপিএলে আসার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন মঈন আলী।
এর আগেও বেশ কয়েকবার বিপিএল খেলেছেন মঈন। এবারের পর্বে তাঁর ঠিকানা সিলেট। ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে প্লে অফে তুলতে অবদান রেখেছেন তিনি। সেরা চারের আগে মঈনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ওকস। এরপর ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডারকে দলে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন মঈন।
রংপুরের বিপক্ষে ২ উইকেটের জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে ওকস বলেন, ‘মঈনের একটা বড় ভূমিকা ছিল। সে এখানে (বিপিএল) অনেক খেলেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর আমি ভিন্ন কিছু লিগ এবং ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চেয়েছিলাম। আমার জন্য বিপিএল এমন একটি অভিজ্ঞতা যা আগে কখনো হয়নি। মঈনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। সে বলেছিল যে, দল আমাকে নিতে আগ্রহী। এরপর আমাদের মধ্যে চুক্তি হয়েছে।’
শেষ ওভারে সিলেটের দরকার ছিল ৯ রান। প্রথম ৫ বলে মাত্র ৩ রান দেন রংপুরের পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ। হারের শঙ্কা তৈরি হয় সিলেট শিবিরে। জেতার জন্য শেষ বলে ৬ রানের সমীকরণ দাঁড়ায় সিলেটের সামনে। স্ট্রাইকে ছিলেন ক্রিস ওকস। ফাহিমের করা শেষ বলে ডিপ এক্সট্রা কাভার দিয়ে ছয় মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। জানালেন, শেষ বলে ৬ রানের সমীকরণ থাকলেও আশা ছাড়েননি তিনি।
ওকস বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন ম্যাচটি একটু একটু করে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল। তবে যখন কেবল একটি হিটের প্রয়োজন হয়, সেটা হোক ছয় কিংবা চার–তখন আমি সব সময় বোলারকে নিয়েও ভাবি। কারণ ব্যাটারের মতো এমন অবস্থায় বোলারও চাপে থাকে। তাই যদিও মনে হচ্ছিল ম্যাচটি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা তো জয় থেকে মাত্র একটি হিট দূরে ছিলাম। যা আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।’
শেষ বলে ছয় মেরে ম্যাচ জিতিয়ে ওকসও বেশ খুশি। ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাঁর কাছে, ‘এটা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। আমি এর আগে কখনো শেষ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতায়নি। এর আগে এমন পরিস্থিতির সামনে পড়লেও সফল হতে পারিনি। আজকের ম্যাচ জেতানোর দিনটা আমার মনে থাকবে। এটা বিপিএলে আমার প্রথম ম্যাচ ছিল। তাই দিনটা আমার জন্য আরও বিশেষ কিছু হয়েই থাকল।’