ওয়ান্ডারার্সে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার এক টেস্টে বিপজ্জনক পিচে ব্যাটারদের বারবার আঘাত পেতে দেখেছিলেন ফাফ ডু প্লেসি। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ব্যাটারদের প্রতি বিরাট কোহলির কঠোর নির্দেশ কী ছিল, তা জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক।
প্রাখর গুপ্তার পডকাস্টে সেই টেস্টের স্মৃতিচারণ করেন ডু প্লেসি। তাঁর মতে, পিচে প্রচণ্ড গতি থাকায় ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল যে, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার ডিন এলগারও লেংথ বলে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন।
সেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে ডু প্লেসি বলেন, ‘ওয়ান্ডারার্সে একটি টেস্ট ম্যাচের কথা মনে আছে আমার। পিচটি বিপজ্জনক ছিল, সত্যিই ভীষণ বিপজ্জনক। ডিন এলগার লেংথ বলে মাথায় আঘাত পেয়েছিল। তখন আমার মনে হয়েছিল, আজ এখানে কেউ মারা যেতে পারে। পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক মনে হচ্ছিল। কারণ, বল গলায় আঘাত করতে পারত, আর উইকেটেও ছিল প্রচণ্ড গতি।’
ম্যাচে ভারত কিছুটা এগিয়ে থাকায় কোহলি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন বলে জানান ডু প্লেসি। তাঁর ভাষ্য, ভারতীয় ব্যাটারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, শরীরের যেকোনো জায়গায় বল আঘাত করলেও যেন তাঁরা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখান। কারণ, তাতে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।
ডু প্লেসি বলেন, ‘সেই ম্যাচে ভারত কিছুটা এগিয়ে ছিল। তাই ভালো অবস্থানে থাকা দলের অধিনায়ক কী করবেন? তিনি বলবেন, ‘চলো, খেলা চালিয়ে যাই।’ আর যে দলের অবস্থা খারাপ, সেই দলের অধিনায়ক বলবেন, ‘চলো, খেলা বন্ধ করে দিই।’ ভারতীয় ব্যাটারদের প্রতি বার্তাটা ছিল পরিষ্কার। গ্লাভস, হাত, মাথা কিংবা গলায় আঘাত পেলেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না। কারণ, তাতে খেলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’
কোহলির এমন কঠোর নেতৃত্বের ধরনকে ইতিবাচকভাবেই দেখেছেন ডু প্লেসি। তাঁর মতে, কোহলির নিজের খেলার ধরন সতীর্থদের মধ্যেও লড়াকু মানসিকতা তৈরি করেছিল। শারীরিক অস্বস্তি সত্ত্বেও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার ক্ষেত্রে অধিনায়কের আচরণ সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করত।
ডু প্লেসি বলেন, ‘তারা অনেকবার আঘাত পেয়েছিল। তবে কোহলি যেভাবে খেলতেন, তাতে দলের মধ্যে একধরনের দৃঢ়তা তৈরি হয়েছিল। আমরা সব সময় এমন নেতাদের কথা বলি, যাঁরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। আপনার কথার চেয়ে আপনার কাজের প্রভাব অনেক বেশি।’
২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছ থেকে ভারতের টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেন কোহলি। তাঁর নেতৃত্বে ৬৮ টেস্টে ৪০টি জয় পায় ভারত। এই সাফল্য তাঁকে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়কের স্বীকৃতি এনে দেয়। ২০২২ সালে অধিনায়কত্ব ছাড়েন তিনি। বর্তমানে ভারতের হয়ে শুধু ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছেন কোহলি।