বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), আইপিএল, পাকিস্তান সুপার লিগ, আইএল টি-টোয়েন্টি, এসএ টোয়েন্টিসহ বিশ্বের প্রায় সব ধরনের টুর্নামেন্টেই দেখা যায় আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের। মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মুজিব উর রহমান, ফজল হক ফারুকিদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণেই টুর্নামেন্টগুলোতে তাঁদের চাহিদা বেশি। তবে এবার আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) এ ব্যাপারে লাগাম টেনে ধরেছে।
বছরে তিনটির বেশি বিদেশের লিগে রশিদ খান-ওমরজাইরা খেলতে পারবেন না বলে এসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাবুলে গতকাল এসিবির বার্ষিক সভায় সভাপতি মিরওয়াইস আশরাফের উপস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে এসিবি বলেছে, ‘ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাতে করে বিদেশি লিগের ব্যাপারে বোর্ড নতুন নীতি অনুমোদন করেছে। ক্রিকেটাররা এখন থেকে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি মাত্র তিনটি বিদেশি লিগে খেলতে পারবেন। ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করে যেন ক্রিকেটাররা সেরাটা দিতে পারেন, সেজন্যই বোর্ড এমন ব্যবস্থা নিয়েছে।’
আফগান ক্রিকেটারদের মধ্যে রশিদ খানকে বিদেশের টি-টোয়েন্টি লিগে বেশি দেখা যায়। আইপিএলে তো থাকেনই। আইএল টি-টোয়েন্টি, এসএ টোয়েন্টিতেও তাঁকে দেখা যায়। কদিন আগে শেষ হওয়া আইএল টি-টোয়েন্টিতে এমআই এমিরেটসের হয়ে খেলেছেন তিনি। বর্তমানে এসএ টোয়েন্টিতে এমআই কেপটাউনের অধিনায়ক আফগান এই তারকা লেগস্পিনার। যুক্তরাষ্ট্রের
মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) তিনি খেলেন এমআই নিউইয়র্কের হয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে ভিন্ন দলে খেলছেন রশিদ ও তাঁর আফগান সতীর্থ মুজিব উর রহমান। পার্ল রয়্যালসের হয়ে খেলছেন মুজিব। আর সম্প্রতি শেষ হওয়া আইএল টি-টোয়েন্টিতে মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে দুবাই ক্যাপিটালসে খেলেছেন নবি। বর্তমানে বিপিএলে নবি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে খেলছেন। তাঁর জাতীয় দলের আরেক সতীর্থ ওমরজাই বিপিএলে সিলেট টাইটানসের হয়ে খেলছেন। এবারের বিপিএলে রহমানউল্লাহ গুরবাজের দল ঢাকা ক্যাপিটালস। এ ছাড়া মোহাম্মদ গজনফার, নুর আহমাদ, নাভিন উল হক, ফারুকিদেরও দেখা যায় বিভিন্ন লিগে।
ক্রিকেটারদের বিদেশের লিগে খেলার ব্যাপারে আফগানিস্তানই যে প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নিয়েছে, ব্যাপারটা তা নয়। ভারতীয় ক্রিকেটারদের বিদেশের কোনো লিগে খেলার অনুমতি দেওয়া হয় না। বিদেশি লিগে খেলতে হলে আইপিএল থেকে অবসর নিতে হবে। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা বছরে দুটি বিদেশি লিগে খেলার ছাড়পত্র পান।