নাহিদ রানা যেখানে শেষ করেছেন, শুরুটা সেখান থেকেই করলেন তানজিদ হাসান তামিম। মিরপুরে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পুরো আলো কেড়ে নিলেন এই দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলির মতে এই দুই ক্রিকেটারের কাছেই তাঁরা হেরে গেছেন।
প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামে বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটিং করা কিউইরা ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। যেখানে গতিতারকা নাহিদ রানা একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বোলিং তো ছিলই, বাউন্সারের পাশাপাশি লেংথের পরিবর্তন করে ব্যাটারদের বোকা বানিয়েছেন। বাংলাদেশের ৬ উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। রানার প্রশংসায় পঞ্চমুখ নিউজিল্যান্ডের ওপেনার কেলি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বাংলাদেশ দলের নাহিদ রানা সত্যিই একজন রোমাঞ্চকর তরুণ প্রতিভা। সে বেশ গতিতে বোলিং করে এবং আমার মনে হয় আজকের উইকেট তাকে সহায়তা করেছে। উইকেটে ঘাস থাকায় নাহিদ রানা ১৪০ এর মাঝামাঝি থেকে ১৪০ এর উপরের গতিতে বোলিং করেছে। ৪৫ ডিগ্রি গরমেও তার ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিংটা সত্যিই রোমাঞ্চকর।’
১৯৮ রানের লক্ষ্য হলেও শুরুতে উইকেট হারানোর রোগ থেকে যে কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারছে না বাংলাদেশ। মিরপুরে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের (শান্ত-তামিম) ১১০ বলে ১২০ রানের জুটিই কিউইদের ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে দিয়েছে। তামিম ৫৮ বলে ১০ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৬ রান করেন। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে ৮৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-১ সমতায় ফিরিয়েছে বাংলাদেশ।
তামিমের বিধ্বংসী ব্যাটিং নজর কেড়েছে কেলির। বাংলাদেশের কাছে ৬ উইকেটে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে কেলি বলেন, ‘তানজিদ হাসান তামিম একজন দক্ষ খেলোয়াড়। তাকে সামনাসামনি খেলতে দেখে ভালো লেগেছে। সে খুব সুন্দরভাবে বল স্ট্রাইক করে এবং আমাদের বোলারদের চাপের মুখে ফেলে দিয়েছিল। বলতে গেলে সে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বড় একটা কাজ করে ফেলেছে। আমাদের শেষ করে দিয়েছে।’
১০২ বলে ১৭ চারে ৮৩ রান করা কেলিই আজ নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার। তাঁর বিদায়ে কিউইদের স্কোর হয়ে যায় ৩৬.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৩ রান। সফরকারীদের ইনিংস এরপর ভেঙে গেছে তাসের ঘরের মতো। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ৪৬ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা। কেলির মতে স্কোরবোর্ডে আরও কিছু রান যোগ করতে পারলে ফল অন্যরকম হতে পারত। সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বিশ্বাস ছিল এই রান নিয়ে লড়াই করা সম্ভব। কিন্তু এখন পেছন ফিরে তাকালে মনে হয় স্কোরটা অন্তত ২৪০-২৫০ হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশের ব্যাটাররা শুরু থেকেই আমাদের ওপর চাপ তৈরি করে সহজে জিতেছে।’
১-১ সমতায় থাকায় তৃতীয় ওয়ানডে হয়ে গেছে সিরিজ নির্ধারণী। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ২৩ এপ্রিল হবে সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচ।