ম্যাট হেনরিকে বোল্ড করেই নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ইতি টানলেন গাস অ্যাটকিনসন। দর্শকদের উদ্দেশ্যে অ্যাটকিনসন দেখালেন তাঁর হাতে থাকা লাল বল। চারপাশে তখন ভেসে আসছে করতালি। কারণ, হেনরিকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিতের পাশাপাশি টেস্টে আরও এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন অ্যাটকিনসন।
লর্ডসে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম টেস্টে রীতিমতো বোলাররা ছড়ি ঘুরিয়েছেন। ব্যাটারদের বধ্যভূমিতে নিউজিল্যান্ড হেরে গেছে ১১৫ রানে। তাতে করে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে দুই থেকে চার নম্বরে নেমে গেল নিউজিল্যান্ড। কিউইদের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ। বাংলাদেশেরও হুবহু একই অবস্থা। ৪ ম্যাচে দুই জয়, এক হার ও এক ড্রয়ে পেয়েছে ২৮ পয়েন্ট। তবে কিউইদের সমান ৫৮.৩৩ শতাংশ সফলতার হার হলেও বাংলাদেশ অবস্থান করছে ৫ নম্বরে।
২৫৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ৫৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। আজ লর্ডস টেস্টের চতুর্থ দিনে কিউইরা ২১.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ৫৫ রানে শুরু করে। দিনের খেলা শুরুর দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসের ২৩তম ওভারের চতুর্থ বলে টম ব্লান্ডেলকে (৪) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ইংলিশ পেসার জশ টাঙ।
৫৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন ডেভন কনওয়ে ও গ্লেন ফিলিপস। সপ্তম উইকেটে ৬৯ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। ওপেনিংয়ে নামা কনওয়ে আউট হয়েছেন সপ্তম ব্যাটার হিসেবে। ৯১ বলে ৪ চারে করেছেন ৪১ রান। ৩৪তম ওভারের শেষ বলে কনওয়েকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙেন বেন স্টোকস। জ্যাকব বেথেল ক্যাচ ধরেছেন কি না, টিভি আম্পায়ার যাচাই করে দেখে কনওয়েকে আউট ঘোষণা করেছেন।
কনওয়ে ফেরার পর নিউজিল্যান্ডের ইনিংস ভেঙে যায় তাসের ঘরের মতো। ২৭ রানে শেষ চার উইকেট হারিয়ে ৪০.৩ ওভারে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা। ৪১তম ওভারের তৃতীয় বলে হেনরিকে বোল্ড করে কিউইদের ইনিংসের ইতি টানেন গাস অ্যাটকিনসন।
৫২ বলে ৪৪ রান করা ফিলিপসই নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। আট নম্বরে নামা এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। ইংলিশ পেসার অ্যাটকিনসন ১১.৩ ওভারে ৩০ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন ওলি রবিনসন ও জশ টাঙ। অধিনায়ক স্টোকস পেয়েছেন এক উইকেট।
লর্ডসে আজ চতুর্থ দিনে শেষ হওয়া প্রথম টেস্টের চার ইনিংসেই ফাইফারের কীর্তি রয়েছে। টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া ইংল্যান্ড ১৪০ রানে গুটিয়ে গেছেন। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের পেসার কাইল জেমিসন ৬২ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ছেড়ে কথা বলেনি ইংল্যান্ডও। স্বাগতিকদের আগুনে বোলিংয়ের জবাবে কিউইরা নিজেদের প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ১১৩ রানে। ইংলিশ পেসার রবিনসন ৩৯ রানে পেয়েছেন ৫ উইকেট।
ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৬ রানই লর্ডস টেস্টে সর্বোচ্চ। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন এমিলিয়ানো গে। এই টেস্ট দিয়েই তাঁর ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে অভিষেক হয়েছে। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচও এটা। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের পেসার নাথান স্মিথ নিয়েছেন ৬ উইকেট।
ইংল্যান্ডের ১১৫ রানের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন অ্যাটকিনসন। লর্ডস টেস্টে সব মিলিয়ে পেয়েছেন ৭ উইকেট। ব্যাট হাতে প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ ও ২৯ রান করেছেন তিনি।