ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া নিয়ে কম ঘটনা ঘটেনি। এই ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। এমনকি ভারত ম্যাচ বাতিলের হুমকি দিয়ে আইসিসিকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
এক মাস হতে চলল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। মোস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিও একটু একটু করে ভুলতে শুরু করেছে ভক্তরা। যে টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে এত জল ঘোলা হয়েছিল—সেই আইপিএলেও শুরু হয়েছে কয় দিন হলো। বাদ দেওয়ার এত দিন পর এসে মোস্তাফিজকে নিয়ে বোধোদয় হলো আইপিএলের চেয়ারম্যান অরুন সিং ধুমালের।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধুমাল বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলব, ঘটনাটি (মোস্তাফিজের বাদ পড়া) দুর্ভাগ্যজনক। এর বেশি আমার জানা নেই। ভারত সরকার ক্রিকেটের দৈনন্দিন পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করতে চায় না। সরকার ক্রিকেটকে সামগ্রিকভাবে সমর্থন করে। তবে কখনো কখনো কিছু ঘটনা ঘটে, যার ফলে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না এবং সুস্থ বুদ্ধির জয় হবে।’
আইপিএলের নিলাম থেকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিকে মোস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কলকাতা। অতীতে এত বেশি দামে আইপিএলে বিক্রি হননি অন্য কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার। রেকর্ড দামে বিক্রি হলেও গত জানুয়ারির শুরুতেই দল হারান কাটার মাস্টার। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবং ধর্মীয় গুরুদের চাপে পড়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে মোস্তাফিজকে বাদ দেয় কলকাতা। এই ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি তুলে ধরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কাতে আয়োজনের দাবি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু বিসিবির এই দাবি মানেনি আইসিসি। উল্টো বাংলাদেশকে ভারতে খেলার অনুরোধ করে বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা। নিজেদের অবস্থানে অটুট থাকায় শেষ পর্যন্ত আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশের।