খেলোয়াড়দের মাঠে মেজাজ হারানোর ঘটনা তো নতুন কিছু নয়। ম্যাচের উত্তেজক পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, এমনকি হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটে। আর এসব ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতে বেশি সময়ও লাগে না।
ডারউইনের টিআইও স্টেডিয়ামে গতকাল বাংলাদেশ ‘এ’-পাকিস্তান শাহিনস ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৫ টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই ম্যাচের ভাইরাল ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তান শাহিনসের ইনিংসে। ১১ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ১১১ রান। ১২তম ওভারের প্রথম বলে হাসান মাহমুদকে লেগ সাইডে ঘোরাতে গেলেও ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি ইয়াসির খান। এদিকে ননস্ট্রাইক প্রান্ত থেকে রান নিতে ভোঁ-দৌড় দেন খাজা নাফে। তাঁর সঙ্গী ইয়াসির বলটা তাঁর পাশে পড়তে দেখে আর দৌড়াননি। তখন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান দৌড়ে এসে হাসানকে বল তুলে দেন। নাফেকে রানআউটের আনুষ্ঠানিকতা সারেন হাসান। রানআউট হওয়ার পর নাফে তৎক্ষণাৎ ব্যাট ছুড়ে মেরেছেন। ইয়াসিরের উদ্দেশে কিছু বলতেও শোনা গেছে তাঁকে (নাফে)। নাফের হয়তো ভেবেছিলেন, ইয়াসির দৌড় দিলে রানটা নেওয়াই যেত।
নাফে ৩১ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৬১ রান। তাঁর আউটে ১১১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর পাকিস্তান শাহিনস রান তুলেছে ঝোড়ো গতিতে। ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৭ রান তুলেছে পাকিস্তান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন ইয়াসির। ৪০ বলের ইনিংসে ৭ চার ও ২ ছক্কা মেরেছেন। ৩ নম্বরে নেমে আবদুস সামাদ ২৭ বলে ৫ ছক্কা ও ১ চারে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ, রাকিবুল হাসান, মাহফুজুর রহমান রাব্বি নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
২২৮ রানের লক্ষ্যে নেমে ৬ রানে প্রথম উইকেট হারালেও বাংলাদেশ ‘এ’ রান তুলতে থাকে ঝোড়ো গতিতে। একটা পর্যায়ে ৭ ওভারে ১ উইকেটে ৯২ রান ছিল বাংলাদেশের স্কোর। এখান থেকেই ধসের শুরু সোহানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। ৫৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬.৫ ওভারে ১৪৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন সাইফ হাসান। ৩ নম্বরে নেমে ৩২ বল খেলে ৫ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন তিনি। পাকিস্তানের সাদ মাসুদ ও ফয়সাল আকরাম নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। ৪০ বলে ৬২ রানের ইনিংসের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে দুটি ক্যাচ ধরে ম্যাচ-সেরা হয়েছেন ইয়াসির। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পরের ম্যাচ আগামীকাল নেপালের বিপক্ষে।