৫০ ওভার তো দূরে থাক, ওয়ানডেতে এখন ইংল্যান্ডের জন্য ৪০ ওভার ব্যাটিং করাই চ্যালেঞ্জিং। নিউজিল্যান্ডে চলমান ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে গিয়েই দ্রুত গুটিয়ে গেছে ইংলিশরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতেছে কিউইরা।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে এ সপ্তাহের রোববার প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ড ৪ উইকেটে জিতলেও বাকি ছিল ৮০ বল। কিউইদের সামনে সেদিন লক্ষ্য ছিল ২২৪ রানের। আজ হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগের চেয়ে ৪৮ রানের কম লক্ষ্য পেয়েছে কিউইরা। স্বাগতিকেরা ১০১ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের আয়েশি জয় পেয়েছে। তাতে ১২ বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড। সবশেষ ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল কিউইরা। সেবার ইংলিশদের ডেরায় ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল নিউজিল্যান্ড।
১৭৬ রানের লক্ষ্যে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই ভেঙে যায় নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি। ইনিংসের চতুর্থ বলে কিউই ওপেনার উইল ইয়াংকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জফরা আর্চার। তিন নম্বরে নেমে কেইন উইলিয়ামসন খেলতে থাকেন ঠান্ডা মাথায়। আরেক ওপেনার রাচীন রবীন্দ্রকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ বলে ৪২ রানের জুটি গড়েন উইলিয়ামসন। ১২তম ওভারের পঞ্চম বলে উইলিয়ামসনকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন জেমি ওভারটন। ৩৯ বলে ৩ চারে ২১ রান করেন উইলিয়ামসন।
টপ অর্ডারের দুই ব্যাটার ফেরার পর চারে নামেন ড্যারিল মিচেল। তৃতীয় উইকেটে ৫৯ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন রাচীন ও মিচেল। ২২তম ওভারের চতুর্থ বলে রাচীনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন জফরা আর্চার। ৫৮ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৪ রান করেন রাচীন। বাঁহাতি এই ওপেনার আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ছোটখাটো ধস নামে। ২১.২ ওভারে যেখানে কিউইদের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১০৫ রান, মুহূর্তেই সেটা ২৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১১৮ রানে পরিণত হয় স্বাগতিকেরা।
ছোটখাটো ধস নামলেও পরে আর কোনো বিপদ হয়নি নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে। ষষ্ঠ উইকেটে ৩২ বলে ৫৯ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন ড্যারিল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনার। অধিনায়ক স্যান্টনার ১৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তুলির শেষ আচড়টা দিয়েছেন ড্যারিল মিচেল। ৩৪তম ওভারের প্রথম বলে জেমি ওভারটনকে লেগ সাইডে ঘোরাতে চেয়েছিলেন মিচেল। তবে আউটসাইড এজ হয়ে সেটা থার্ড ম্যান এলাকা দিয়ে চার হয়ে গেছে। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৬ রান মিচেল করেছেন। ৫৯ বলের ইনিংসে ৬ চার ও ২ ছক্কা মেরেছেন। ইংল্যান্ডের আর্চার ১০ ওভারে ২৩ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। চার ওভার মেডেন দিয়েছেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন ওভারটন ও আদিল রশিদ।
হ্যামিল্টনে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। আগে ব্যাটিং পাওয়া ইংল্যান্ড ৩৬ ওভারে ১৭৫ রানে গুটিয়ে গেছে। ইনিংস সর্বোচ্চ ৪২ রান করেছেন ওভারটন। ২৮ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৪ চার ও ২ ছক্কা। নিউজিল্যান্ডের ব্লেয়ার টিকনার ৮ ওভারে ৩৪ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। এক ওভার মেডেন দিয়েছেন। তিনিই পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। এর আগে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে আগে ব্যাটিং পেয়ে ৩৫.২ ওভারে ২২৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কিউইরা ৩৬.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৪ রান করেছিল কিউইরা। ম্যাচ হারলেও ১০১ বলে ১৩৫ রানের ইনিংস খেলে ব্রুক জিতেছিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।