জসপ্রীত বুমরার ওভার তখনও শেষ হয়নি। হঠাৎ আলোকস্বল্পতার কারণে চতুর্থ দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। এ নিয়ে নাখোশ রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি বিতর্কও জুড়ে দেন। বেঙ্গালুরুর আকাশে তখন কালো মেঘের ঘনঘটা। দুই আম্পায়ার আলো মেপে চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে কথাও বলেন। এরপর খেলা অবশ্য শুরু করা যায়নি।
রোহিত-কোহলিরা বিমর্ষ মুখে প্যাভিলিয়নে ফিরতেই আকাশ ভেঙে নেমে আসে বৃষ্টি। ভাগ্যিস তার আগেই উইকেট ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। ভারতীয়দের মুখ এমন থমথমে হয়ে যায় দ্বিতীয় নতুন বলের পর। ৬২ রান করতেই শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে তারা, খেলতে পেরেছে ১৯.৩ ওভার। তার আগে সরফরাজ খান ও ঋষভ পন্তের জুটিতে উল্টো জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ভারত।
৩ উইকেটে ২৩১ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে স্বাগতিকেরা। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা ভুলে ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট চালালেও কোনো উইকেট না হারিয়ে মধ্যাহ্নভোজ থেকে ফিরে লিডও নেয়। কিন্তু সরফরাজ (১৫০) ফিরতেই সব আশার বাতি নিভতে থাকে একে একে। টেস্টে সপ্তমবারের মতন ‘নার্ভাস নাইন্টি’তে ফিরতে হয়েছে পন্তকে (৯৯)। আগেরদিন হাঁটুর চোটে পড়লেও সকাল থেকে সরফরাজকে দারুণ সঙ্গ দেন ভারতীয় উইকেটরকক্ষক। চতুর্থ উইকেটে দুজনে করেছেন ১৭৭ রানের জুটি।
৭০ রান নিয়ে দিন শুরু করা সরফরাজ ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির বুনো উদযাপন করেন প্রথম সেশনে। ব্যাকফুটে এসে টিম সাউদির বল ব্যাটের হালকা স্পর্শেই বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ১১০ বলে ছুঁয়ে ফেলেন তিন অঙ্কের ঘর। এরপর বৃষ্টির বাগড়া, তখনই দিনের খেলার ২৪ ওভার চলে যায় বৃষ্টিতে। মধ্যাহ্নভোজের পরও রানের চাকা ঘুরছিল ভারতের। কিন্তু নতুন বলের পর শুরু হয় পতন। সমান ৩টি করে উইকেট নিয়ে ভারতকে ৪৬২ রানে থামিয়ে দেন দুই পেসার ম্যাট হেনরি ও উইলিয়াম ও’রুর্কি। স্বাগতিকদের লিড দাঁড়ায় ১০৭ রান।
দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে নিউজিল্যান্ড খেলেছে মাত্র ৪ বল। করেনি কোনো রান। ১০ উইকেট নিয়ে আগামীকাল লক্ষ্য তাড়ার জন্য তারা পাচ্ছে পুরো দিন। তবে বৃষ্টির কারণে দিনের শেষ দিকে বোলারদের সহায়ক হয়ে ওঠা উইকেটে সুবিধা কাজে লাগাতে না পারলেও ম্যাচ বাঁচাতে ভারত চাইবে বেঙ্গালুর টেস্টের শেষ দিন যাক বৃষ্টির পেটে।