গত এক দশকে ভারতের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ক্রিকেটার তিনি। অথচ পাঁচ মাসের ব্যবধানে সেই বিরাট কোহলিই কি না দলের সাধারণ এক সদস্য পরিণত হয়েছেন। দলে আগের সেই প্রতাপও কমে এসেছে, ব্যাটও কথা শুনছে কদাচিৎ। আগামীকাল মোহালিতে অবশ্য অতীত ভুলে নতুন একটা শুরু চাইবেন কোহলি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের ৫৬১তম টেস্ট হতে যাচ্ছে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই ব্যাটারের ১০০ তম টেস্ট।
তবে ১০০ টেস্ট খেলবেন কখনো ভাবেননি কোহলি। মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে ভারতের সাবেক অধিনায়ক নিজেই জানালেন সে কথা, ‘সত্যি বলতে কখনো ভাবিনি ১০০ টেস্ট খেলব। এ যাত্রাটা বেশ লম্বাই ছিল। এই ১০০ টেস্টের মাঝে প্রচুর ক্রিকেট খেলেছি। অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি। আমি কৃতজ্ঞ যে ১০০ টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’
কোহলির আগে ভারতের হয়ে ১০০ টেস্টের শৃঙ্গ ছুঁয়েছেন ১১ জন, সব মিলিয়ে ১০০ টেস্ট ছোঁয়ার পর্বতারোহীর সংখ্যা ৭০-এ ঠেকেছে। ২০১১ সালে কিংসটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোহলির টেস্ট ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এ সময়ে নিজেকে অন্য উচ্চতায় আসীন করেছেন তিনি। ফিটনেস দিয়ে আধুনিক ক্রিকেটে নিজের ছাপ রেখেছেন দুর্দান্ত দক্ষতায়, ‘ফিটনেস নিয়ে আমি প্রচুর খেটেছি। এটা আমার নিজের, আমার পরিবার এবং আমার কোচের জন্য বড় একটা মুহূর্ত। যতটুকু জানি এই টেস্ট ম্যাচ নিয়ে তিনি (কোচ) খুব খুশি ও গর্বিত।’
ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৯ রান করেছিলেন কোহলি। সাদা পোশাকে সেঞ্চুরি দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল সাত টেস্ট। ৯৯ টেস্টে ৫০.৩৯ গড়ে তাঁর রান ৭৯৬২। ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে আসা নিয়ে কোহলি জানালেন, ‘সব সময় আমার ভাবনা ছিল ইনিংস বড় করা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পৌঁছানোর আগে জুনিয়র ক্রিকেটে সাতটি-আটটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছি। তাই আমার কাছে বিষয়টা ছিল, যতক্ষণ ব্যাট করা যায় ততক্ষণ করব।’
অষ্টম টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া কোহলি পরের ৭৭ টেস্টে ২৭ সেঞ্চুরি করেছেন। তবে শেষ ১৫ টেস্টে আর সেঞ্চুরির গেরো খুলতে পারেননি। সব সংস্করণ মিলিয়ে সর্বশেষ ৭০ ইনিংসে না পাওয়া কোহলি শততম টেস্টটা নিশ্চয়ই সেঞ্চুরি দিয়ে রাঙাতে চাইবেন।