সময়টা ভালো যাচ্ছিল না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের মাঠে শ্রীলঙ্কা সিরিজ, স্কটল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং প্রস্তুতি ম্যাচে একের পর এক হার ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতিদের সঙ্গী। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই বদলে গেল বাংলাদেশ।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে ৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সাতটিতেই হেরেছিল তারা। বিপরীতে জয় ছিল মাত্র দুটিতে। এমন ব্যর্থতায় আত্মবিশ্বাস কমছিল একটু একটু করে। সে প্রভাব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে দেখা গেল না। ব্যাটে-বলে দারুণ পারফর্ম করেই নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছে দলটি।
বার্মিংহামে বাংলাদেশের জয়ের ভীত গড়ে দেন বোলাররা। রিতু মনি, রাবেয়া খানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রানের বেশি করতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। ইউরোপের দলটির হয়ে এক বাবেটে দে লিডি ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দাঁড়াতে পারেননি। ৪৫ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৫০ রান এনে দেন এই টপঅর্ডার। এ ছাড়া হিথার সিগারস ১৬ এবং রবিন রিজকে ও আইরিশ জিলিং করেন ১৩ রান।
বাংলাদেশের হয়ে ১৭ রানে ১ উইকেট নেন রিতু। ১ উইকেট নেওয়ার পথে রাবেয়া দেন ২৬ রান। সবচেয়ে বেশি খরুচে ছিলেন ফারিহা তৃষ্ণা; ৩২ রানে তাঁর শিকার ১ উইকেট। ৩১ রান খরচায় ২ উইকেট নেন মারুফা আক্তার।
রান তাড়ায় ৫ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। জুয়াইরা ফেরদৌসের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল দলটি। অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে এই ওপেনার যখন ফিরছিলেন, ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে ৬৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জুয়াইরা একাই করেন ৫০ রান। তাঁর ৩৩ বলের ইনিংটা সাজানো ৭ চার ও ২ ছক্কায়। সেখান থেকে দলীয় ৮৫ রানের মধ্যে জ্যোতি (০), দিলারা আক্তার (২৬) ও সোবহানা মোস্তারিকে (৪) হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের দৃঢ়তায় কোনো বিপদ হয়নি। ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তাঁরা। শারমিন ৩৮ ও স্বর্ণা ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২৭ রানে ২ উইকেট নেন ক্যারিলন ডি ল্যাঙ্গে।