২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তান আয়োজক হলেও ভারতীয় ক্রিকেট দল প্রতিবেশী দেশে খেলেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলেছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শুবমান গিলরা। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও।
আইসিসি গত পরশু ২০২৭-৩১ চক্রের মেজর ইভেন্টের সূচি প্রকাশ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে ২০২৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপের আয়োজক পাকিস্তান। এবারও ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো অবস্থা হতে পারে বলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক কর্মকর্তার কথায় তেমন ইঙ্গিতই মিলেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিসিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে সম্ভাব্য নিরপেক্ষ ভেন্যু হবে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কারণ, পাকিস্তান থেকে দুবাইয়ের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ। সময় কম লাগে। এতে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে এবং খরচও কম হবে।’
ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সব ম্যাচ দুবাইয়ে খেলেছিল। রোহিতের নেতৃত্বে দলটি হয়েছিল চ্যাম্পিয়নও। অন্যদিকে পাকিস্তান টুর্নামেন্টের ১৫ ম্যাচের মধ্যে ১০ ম্যাচ আয়োজন করেছিল। এর মধ্যে লাহোরে অনুষ্ঠিত একটি সেমিফাইনালও ছিল। সেখানে ভারত খেলেনি।
ভারতের ম্যাচগুলো ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে লাহোরে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল পিসিবি। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) তাতেও মন গলেনি। এবার ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গত বছরের ঘটনা মাথায় রেখেই এগোতে চায় পাকিস্তান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিসিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দুই গ্রুপের ম্যাচগুলো এবং ভারতীয় দল অংশ নেবে না—এমন নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে চাই।’
২৯২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। দুইয়ে থাকা ইংল্যান্ডের রেটিং পয়েন্ট ২৭৬। ২৬৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনে ভারত। ২০২৫ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি সংস্করণে অনুষ্ঠিত ২০২৬ নারী এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়—সব মিলিয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের নারী ক্রিকেট দল দুর্দান্ত খেলছে। ২০২৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বেশি। তবে ভারত যদি ফাইনালে না উঠতে পারে, সেক্ষেত্রে ফাইনাল লাহোরে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
২০২৪ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত বিসিসিআই-পিসিবির মধ্যে সমঝোতা চুক্তি করিয়ে দেয় আইসিসি। এই চক্রে যে যে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজক ভারত-পাকিস্তান, অপর দলগুলো সেসব দেশে যাবে না। পাকিস্তানে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলবে ২০২৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর ১২ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের যৌথ আয়োজনে হবে ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।