বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিটি কী প্রতিবেদন জমা দেয়, সেটা নিয়ে কৌতূহল ছিল গত কয়েক দিন ধরেই। আজ সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া পর অবাক করার মতো কিছু চোখে পড়েনি। কাউকে অভিযুক্ত করেনি তদন্ত কমিটি।
গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তামিম ইকবাল ও তাঁর সমমনা সংগঠকেরা। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অভিযোগও করেছিলেন। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গুঞ্জন ছিল, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন যাবে বোর্ডের বিরুদ্ধে। তাতে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু তদন্ত কমিটির প্রধানের বক্তব্যের পর সে আশঙ্কা কেবল গুজব হয়েই থাকল।
বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে—তদন্ত কমিটির প্রধানের বক্তব্যে তেমন কিছু বোঝা যায়নি। আসাদুজ্জামানের বক্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভাঙার সুপারিশ করতে পারেন না তারা। তবে কিছু সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এই ধরনের জটিলতার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে জন্য বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধন করার সুপারিশ করেছেন আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কাউকে অভিযুক্ত করে নয়, আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে আমরা চিঠি লিখেছিলাম। তাঁকে অভিযুক্ত করার জন্য নয়, বরং বক্তব্য শোনা এবং কিছু বলতে চান কি না তা জানার জন্য। আমরা সময় দিয়েছিলাম এবং অপেক্ষা করেছি, কিন্তু তিনি আমাদের কাছে আসেননি।’
সুপারিশ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম একটা সুপারিশ দেওয়ার জন্য যেন পরবর্তীতে নির্বাচনটা সুন্দর করার জন্য বা এই বোর্ড সংক্রান্ত আর কোনো সুপারিশ করা যায় কি না, এই সম্পর্কে আমরা কিছু নীতিমালা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা যাঁদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিলাম, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চেষ্টা করেছি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যা পেয়েছি, সেভাবে সুন্দরভাবে (প্রতিবেদন দেওয়ার) চেষ্টা করেছি। সংক্ষিপ্তভাবে কাউকে অভিযুক্ত না করে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের সময় যা পেয়েছি, সে সম্বন্ধে প্রতিবেদন দিয়েছি।’