আইসিসির টি-টোয়েন্টি দলগত র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ডের অবস্থান দুয়ে। ছয় নম্বরে পাকিস্তান। এই র্যাঙ্কিংই বলে দিচ্ছে বিশ্বকাপের সুপার এইটে আজ এই দুই দলের লড়াইয়ে কারা ফেবারিট। এর সঙ্গে দুই দলের অতীত লড়াইয়ের পরিসংখ্যানকে সামনে আনলে এগিয়ে থাকে ইংল্যান্ডই। এ পর্যন্ত দুই দল টি-টোয়েন্টিতে ৩১ বার মুখোমুখি হয়েছে। ইংল্যান্ডের ২০টি জয়ের বিপরীতে পাকিস্তানের জয় ৯টিতে। একটি করে ম্যাচ টাই ও পরিত্যক্ত।
আর অতীত সাক্ষাতের পরিসংখ্যানটা যদি বিশ্বকাপেই রাখা হয়, তাহলে তো আজকের ম্যাচে ইংল্যান্ডই নিরঙ্কুশ ফেবারিট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের তিনবারের সাক্ষাতে একবারও জিততে পারেনি পাকিস্তান। তিনটিতেই হেরেছে তারা।
তাহলে কি আজকের ম্যাচ শেষে জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানটা ‘ইংল্যান্ড ৪:০ পাকিস্তান’ই দাঁড়াবে! কাগজ-কলমে ইংল্যান্ডে ঢের এগিয়ে থাকলেও এটা আবার বুকে হাত রেখে বলা যাবে না। যাবে না কারণ, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। অধারাবাহিকতাই যাদের ধারাবাহিকতা। খারাপ খেলতে খেলতে কোন দিন যে তারা জ্বলে ওঠে, কেউ বলতে পারবে না। আর তাদের জ্বলে ওঠার দিনে প্রতিপক্ষে যে-ই হোক, ভোগান্তি থাকে তাদের কপালে। তবে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে ফুরফুরে মেজাজেই খেলতে পারে ইংল্যান্ড। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারানোয় ভালো অবস্থানে ইংল্যান্ড। আজ জিতলেই ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে হ্যারি ব্রুকের দল।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে বাতিল হওয়ায় চাপে পাকিস্তান। সেমির আশা জিইয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে তাদের। এই চাপটাই না কাল হয়ে যায় পাকিস্তানের।
আজকের ম্যাচকে সামনে রেখে আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন পাকিস্তানের ফর্মে থাকা ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বললেন, ‘এ ম্যাচটা চ্যালেঞ্জিং হবে।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো জয় না পাওয়া নিয়ে বললেন, ‘রেকর্ড যেমনই হোক না কেন, আমাদের দলের মনোবল অনেক উঁচুতে, আমরা পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। টি-টোয়েন্টি এমন খেলা, যেখানে আগে থেকে কিছু বলা যায় না। আমাদের ব্যাটসম্যানরা এখানে ভালো পারফর্ম করেছে। তাই আমরা তাদের কঠিন লড়াই উপহার দেব।’
এই সুপার এইটের আগে গ্রুপ পর্বে মাত্র এক ম্যাচেই শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান, আর সেই ম্যাচেই সুপার ফ্লপ। সুপার এইটে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকলেও সে ম্যাচটি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বৃষ্টি। তাই বড় দলের বিপক্ষে পাকিস্তানের ব্যাটারদের পরীক্ষায় সেভাবে বলতে গেলে পড়তে হয়নি। ফারহান মেনে নিচ্ছেন, ব্যাটিংয়ে আরও ভালো করতে হবে তাদের। তাঁর ভাষায়, ‘টি-টোয়েন্টিতে টপঅর্ডারের তিন-চারজন ব্যাটসম্যানের ইনিংস লম্বা করা উচিত। আমরা সেটি করতে পারছি না, যেমন আপনি বললেন—ব্যাটিংয়ে ধস নামছে। তবে ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে এবং সব মনোযোগ আগামীকালের ম্যাচকে ঘিরে। বাকিটা দেখতে পাবেন ইনশা আল্লাহ।’
পাওয়ারপ্লেতে আশানুরূপ ভালো রান তুলতে পারে না পাকিস্তান। তবে এ নিয়ে ভিন্নমত ফারহানের, ‘আমার ব্যাটিং স্ট্রাইকরেট এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চদের তালিকায়। পাওয়ারপ্লেতে ২-৩ বল দেখে নেওয়া জরুরি। তবে সুযোগ পেলে প্রথম বল থেকেই মারার চেষ্টা করি।’
এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের শুরুটা ধীরলয়ে হলেও তারা এখন ছন্দে। ইংলিশ অলরাউন্ডার লসনের দাবি, ‘আমরা জানি, আমরা আরও অনেক ভালো খেলতে পারি।’
সেই ‘অনেক ভালো’টা কি দেখা যাবে আজ?