২ উইকেটে ১৬২ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় জিম্বাবুয়ে। নিক ওয়েলচ-শন উইলিয়ামস জুটি ভোগাচ্ছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু চট্টগ্রামে তীব্র গরমের প্রভাবে ওয়েলচের ক্র্যাম্পই যেন কাল হলো সফরকারীদের। তৃতীয় উইকেটে দুজন গড়েছিলেন ৯০ রানের অসাধারণ এক জুটি। ওয়েলচ সেচ্ছায় অবসরে গেলে শুরু হয় তাইজুল ইসলামের ভেলকি আর জিম্বাবুয়ের ধসে পড়া। চা বিরতি থেকে ফিরে টপাটপ উইকেট তুলতে থাকেন এ বাঁহাতি ব্যাটার। তৃতীয় সেশনে ৬৭ রানে হারিয়েছে তারা ৭ উইকেট। চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ২২৭ রান করেছে জিম্বাবুয়ে।
চট্টগ্রামে নিজের সবশেষ টেস্টে ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল। সেই ছন্দ ধরে রাখলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও। ৬০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। তৃতীয় সেশনে জিম্বাবুয়ের ৪টি উইকেটই নিয়েছেন তাইজুল। সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের সহায়তায় করেছেন একটি রান আউট। সিলেট টেস্টের মতো অভিজ্ঞ উইলিয়ামস পরীক্ষা নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলারদের। ১৬৬ বলে ৬৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েলচ করেছেন ১৩৩ বলে ৫৪ রান। অবসর থেকে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে রান যোগ করার আগেই দ্বিতীয় বলে তাইজুলের বলে বোল্ড হয়েছেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। সিরিজে টিকে থাকতে বাংলাদেশের এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। টেস্টের প্রশ্নও অনেকটা ফাঁস ছিল। ঘূর্ণিক্ষেত্রয় লড়তে হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়েকে। ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারান ভালোই শুরু করেছিলেন। প্রথম উইকেট পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল একাদশ ওভার পর্যন্ত। তবে স্পিন সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ২১ রানে ফেরান বেনেটকে।
দ্বিতীয় সেশনের আগে আরেক ওপেনার কারানকে ২১ রানে ফেরান তাইজুল। তৃতীয় উইকেটে দারুণভাবে রান বাড়াতে থাকে জিম্বাবুয়ে। উইলিয়ামস-ওয়েলচ গড়েন ৯০ রানের দুর্দান্ত এক জুটি। ওয়েলচ গরম ও ক্র্যাম্পজনিত কারণে অবসরে গেলে কপাল খুলে বাংলাদেশের। তারপর ৫ ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরেই পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। ওয়েসলে মাধেভেরে করেছেন ১৫ রান।
ব্লেসিং মুজারাবানি ২ ও ১৮ রান নিয়ে কাল আবারও ব্যাটিংয়ে নামবেন তাফাদজওয়া সিগা। তাইজুলের পাশাপাশি ২টি উইকেট নিয়েছেন নাঈম হাসান।