ফুটবলে তারা চারবারের চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ক্রিকেটে বিশ্বকাপ জয় তো দূরে থাক। এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে৷ ইতালি সম্পর্কে যে কথাটা বলা, সেটা অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। আর নিজেদের প্রথম আইসিসি ইভেন্টেই তারা ঘটাল অঘটন। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে নেপালকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে নবাগত এই দল।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ইতালির শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই নেপালি ওপেনার কুশল ভুর্তেলকে (৫) ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন ইতালিয়ান বোলাররা। এরপর আসিফ শেখ (২০) ও অধিনায়ক রোহিত পাউডেল (২৩) প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ৪৯ রানের মধ্যে দুজনেই সাজঘরে ফেরেন। মিডল অর্ডারে আরিফ শেখের ২৭ এবং শেষ দিকে করণ কেসির ১১ বলে ১৮ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে নেপাল কোনোমতে একশ পার করে। ১৯.৩ ওভারে সব কটি উইকেট হারিয়ে নেপালের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৩ রান।
ইতালির বোলারদের মধ্যে ক্রিশান কালুগামাগে ১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নেপালকে ধসিয়ে দেন। বেন মানেন্তি ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচায় শিকার করেন ২ উইকেট। এ ছাড়া জাসপ্রীত সিং, আলী হাসান ও জেজে স্মাটস একটি করে উইকেট নেন।
১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেপালের বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়েছেন দুই ওপেনার জাস্টিন ও অ্যান্থনি মস্কা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই তারা স্কোরবোর্ডে ৬৮ রান যোগ করে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করে ফেলেন। নেপালের অভিজ্ঞ স্পিনার সান্দীপ লামিচানে থেকে শুরু করে করণ কেসি—সবাই ছিলেন এই জুটির সামনে অসহায়।
জাস্টিন মস্কা ৪৪ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৬০ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্য প্রান্তে আরও বিধ্বংসী ছিলেন অ্যান্থনি মস্কা; মাত্র ৩২ বলে ৩টি চার ও ৬টি বিশাল ছক্কায় ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। এই অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটিতে ভর করেই কোনো উইকেট না হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইতালি।
এমন দাপুটে জয়ে ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে সি গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় তিন নম্বরে আছে ইতালি। অন্যদিকে, ২ ম্যাচের দুইটিতে হেরে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে আছে নেপাল ।