বড় কোনো অঘটন না ঘটলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেবে আফগানিস্তান। নিউজিল্যান্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যায় তারা। বিশেষ করে প্রোটিয়াদের কাছে হারটাই বেশি পোড়াচ্ছে দলটিকে। সেই ম্যাচে হেরে খাবারের ওপর রাগ ঝেড়েছে আফগানরা–এমনটাই জানালেন দলটির অধিনায়ক রশিদ খান।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাজেভাবে হেরে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল আফগানিস্তান। তবে এবার জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষের ভুলে হারতে হয়েছে তাদের। দক্ষিণ আফ্রিকার করা ১৮৭ রানের জবাবে সমান রানে থামে আফগানিস্তান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও হয়েছে নাটকীয়তা। প্রথমবার দুই দলের রান সমান হওয়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়; শেষ হাসি হাসে এইডেন মার্করামের দল।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামীকাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাঠে নামবে আফগানিস্তান। তার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে রশিদ বলেন, ‘আমরা তখন (দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর) আহমেদাবাদে ছিলাম। টিম ম্যানেজারকে বললাম খাবার অর্ডার করতে। পেশোয়ারি খাবার—ডাল বুখারা, ডাল মাখানি; সঙ্গে তন্দুরি চিকেন আনতে বললাম। যেন সেই রাগটা খাবারের ওপর ঝাড়তে পারি।’
রশিদ আরও বলেন, ‘কেউ যেন না বলে, অমুক এটা করেছে, তমুক ওটা করেছে—এতে দলে নেতিবাচকতা আসে। কেউ আলাদা করে হারেনি, পুরো দলই হেরেছে। আমরা সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সুপার ওভারে যাওয়ার জন্য আমি কখনোই কোনো খেলোয়াড়কে দোষ দেই না। অধিনায়ক হিসেবে সবাইকে বলি, এসব কথা আমি শুনতে চাই না। খেলায় হারার চেয়েও খেলোয়াড়দের দোষারোপ করা আমাকে বেশি কষ্ট দেয়। আমরা সবাই একসঙ্গে চেষ্টা করেছি।’
দুই ম্যাচ শেষে কোনো পয়েন্ট না পাওয়া দলটির অবস্থান ‘ডি’ গ্রুপের তিন নম্বরে। টানা দুই হারে সুপার এইটে ওঠার পথটা একরকম রুদ্ধ হয়ে গেছে তাদের। দলের টানা পরিশ্রমের পরও এভাবে ব্যর্থ হওয়ায় ভীষণ মন খারাপ রশিদের। ক্ষীণ আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে বাকি ম্যাচ দুটি জিততেই হবে তাদের। সেই সঙ্গে পক্ষে আসতে হবে অন্যান্য ম্যাচের সমীকরণ। ৬ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপের শীর্ষে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিউজিল্যান্ডের অবস্থান দুইয়ে। ব্ল্যাক ক্যাপদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। এই দুই দলের অবস্থান বলছে, গ্রুপ পর্বের বাধা পার করা কতটা কঠিন হবে আফগানিস্তানের জন্য।
রশিদ বলেন, ‘ভালো করার জন্য এক বা দেড় বছর ধরে আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। কিন্তু সব সময় যে ফল পক্ষে আসবে তা নয়। এটা সত্যিই বেশ চ্যালেঞ্জিং। ধরুন ১০০ বারের মধ্যে আপনি যদি ৯৯ বার সফল হলেন। বাকি একবার যদি ব্যর্থ হন মানুষ সেটাই মনে রাখবে। বাকি ভালো ফলগুলো সবাই ভুলে যায়। এটাই সবচেয়ে কঠিন বিষয়। এই মানসিকতা ধরে রাখা খুব চ্যালেঞ্জিং, তবে মজারও বটে। আসলে খুব বেশি নতুন কিছু করার দরকার নেই—নিজের দক্ষতা মাঠে কাজে লাগাতে পারলেই হয়। সেই দক্ষতা আসে অনুশীলন থেকে। আপনি অনুশীলনে যত বেশি পরিশ্রম করবেন, খেলায় আপনার দক্ষতার ওপর নিয়ন্ত্রণ তত বেশি থাকবে। চাপ তো থাকবেই; একই সঙ্গে এটা উপভোগ্যও।’