বর্তমানে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কোনো গবেষণামূলক কার্যক্রম চলমান নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান ওবায়দুল কাদের। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গবেষণা প্রকল্পের অনুমোদন চলমান জানিয়ে মন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা ৩৬০ মিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে, যার অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। এই প্রকল্পে ইন্টারন্যাশনাল রোড অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম স্টাডির মাধ্যমে দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কসমূহ সড়ক নিরাপত্তার প্রেক্ষিতে রেটিং প্রদানবিষয়ক গবেষণামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত আছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এই কার্যক্রমের আওতায় সড়কের নিরাপত্তা ও জিওমেট্রির ভিত্তিতে বিভিন্ন জাংশন উন্নয়নের সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে তা ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর নাগাদ বাস্তবায়িত হবে।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরীতে বিআরটিসিসহ বেসরকারি বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির প্রায় ৬ হাজার বাস চলাচল করে। বিআরটিসির কিছুসংখ্যক রুটে ই-টিকেটিং চালু আছে। এ ছাড়া ৯৭টি বেসরকারি পরিবহন কোম্পানির মধ্যে ৬৯টি কোম্পানির ৩ হাজার ৩০০ বাসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির তত্ত্বাবধানে ই-টিকেটিং চালু করা হয়েছে। বিআরটিএ এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, অচিরেই অবশিষ্ট কোম্পানির বাসে ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম মহানগরীতে এই সেবা প্রদান করা হবে।
ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু চালুর পর গত মার্চ পর্যন্ত ৬০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।
১৯৯৮ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর পরে গত মার্চ পর্যন্ত সাত হাজার ছয়শ ৯৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং ২০০৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তারপুর সেতু চালুর পরে এখন পর্যন্ত দুইশ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার টোল আদায় করা হয়েছে।