ব্রিটিশ-পাকিস্তানি পরাধীন আমলের শোষণমূলক রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে স্বাধীন দেশের উপযোগী কাঠামো ও ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায় দিয়েছেন শ্রম-কর্ম-পেশাজীবী জনগণ। আজ শুক্রবার যুব বাঙালির কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে।
সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শরিফুল ইসলাম হৃদয়ের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, পরাধীন শাসকদের বিরুদ্ধে বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এবারের গণভোট এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই গণভোটের মাধ্যমে দেশের জনগণ স্বাধীন দেশের উপযোগী রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে গণরায় দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণভোটে দেশের শ্রম-কর্ম-পেশার জনগণের এই ঐতিহাসিক রায়কে কেন্দ্র করে বিদ্যমান পরাধীন আমলের শোষণমূলক রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শোষণমূলক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে দেশের জনগণ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবে।
অবিলম্বে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শ্রম-কর্ম-পেশা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক শক্তিসমূহের প্রতিনিধিত্বের সমন্বয়ে রাষ্ট্র সংস্কারে গণপরিষদ গঠন ও জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে গৃহীত জুলাই সনদে সংসদের উচ্চকক্ষ গড়ে তোলার প্রস্তাব থাকলেও তাতে শুধু দল মনোনীত প্রতিনিধিদেরই থাকার সুযোগ আছে। এতে দলীয় নেতা-কর্মীরাই সংসদের উভয় কক্ষ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন এবং পুনরায় ফ্যাসিবাদ জনগণের ওপরে আরও জেঁকে বসবে। জনগণের জীবনের বিনিময়ে যে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছিল, তা যদি আবার ভিন্ন চেহারায় দ্বিগুণ আকারে ফিরে আসে, তাহলে জনগণ অবশ্যই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
আজ প্রয়োজন নিম্নকক্ষে দলীয় প্রতিনিধির পাশাপাশি শ্রম-কর্ম-পেশাজীবীদের অদলীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে উচ্চকক্ষ গঠন করা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষমতায় আরোহণ করা কিংবা ক্ষমতার সুবিধাপ্রাপ্ত দলসমূহ বারবার ভুলে যায়, স্বাধীনতা ও গণ-অভ্যুত্থান কোনো দলীয় অর্জন নয়। শ্রম-কর্ম-পেশার জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে। জনগণ বারবার জীবন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের মালিক হতে পারেনি; এ দেশের জনগণকে যারা বারবার প্রতারিত করেছে, তাদের ঐতিহাসিক মূল্য দিতে হয়েছে, ভবিষ্যতেও দিতে হবে।
যুব বাঙালি বিশ্বাস করে, গণরায়ের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা ও কাঠামো বদলের যে আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে, তা কখনই পুরোনো মনমানসিকতাসম্পন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে পূরণ হবে না, নতুনের আহ্বান জানিয়ে যাঁরা পুরাতনের সঙ্গী হয়েছেন, তাঁদেরও ঐতিহাসিক খেসারত দিতে হবে জনগণের কাছে।