হোম > রাজনীতি

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যাচ্ছেন লুৎফুজ্জামান বাবর, এ টি এম আজহার

আশরাফুল আলম আপন, বদরগঞ্জ (রংপুর) ও আজকের পত্রিকা ডেস্ক

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর খালাস পেয়েই তাঁরা দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

কারাগার থেকে মুক্তির এক বছর পরই মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ি তথা নেত্রকোনা-৪ আসনে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা নিয়ে জীবনে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত এবং উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে সারা দেশেই তিনি এখন আলোচিত ও প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক চরিত্র।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে টানা ১৭ বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। বন্দী থাকা অবস্থায়ই ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। তবে হাসিনার পতন হলে গত বছরের ১৬ জানুয়ারি তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোট বেশি পেয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোটের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট।

এর আগে ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করেছিলেন বাবর। পরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন তিনি। সেবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় হলো ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা। ২১ আগস্ট ২০০৪ সালে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়, যার লক্ষ্য ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। এই ঘটনায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হন।

এই হামলার ঘটনায় বাবরকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে আদালতের রায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে তাঁর বিচার ও রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। বিএনপি দাবি করে, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) আসন থেকে ৫৯ হাজার ৭৭০ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম।

দাঁড়িপাল্লা মার্কায় এটিএম আজহারুল ইসলাম ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ আলী সরকার ধানের শীর্ষ মার্কায় ভোট পান ৭৯ হাজার ৯১০। ভোটের দিন দিবাগত রাতে গণনা শেষে এটিএম আজহারুল ইসলামকে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান।

জয়ী হওয়ার পর এটিএম আজহারুল বলেন, ‘এ বিজয় আমার নয়, জনগণের। ভোটাররা আমার প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’

তিনি তাঁর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাকে যারা ভোট দেয়নি, তাদের সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করবেন না। তাদের বুকে টেনে নেওয়া চেষ্টা করবেন, যাতে আগামী দিনে তারা আমাকে ভোট দেয়।’

কে এই এটিএম আজহারুল

এটিএম আজহারুলের গ্রামের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় লোহানীপাড়া ইউনিয়নে। তিনি বদরগঞ্জ পৌর শহরের বালুয়াভাটায় বসবাস করেন। এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধার সময় রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা, অপহরণ ও ধর্ষণের মত মানবতা বিরোধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।

২০১২ সালের ২২ আগস্ট তিনি গ্রেপ্তার হন। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। তিনি আপিল করলে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন।

এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৭ মে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিলের রিভিউ শুনানির পর তাঁকে খালাস প্রদান করেন। এর আগে এটিএম আজহারুল ইসলাম ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে মহাজোটের প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডলের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।

এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের যত অভিযোগ

মুক্তিযুদ্ধকালে রংপুরে আলবদর বাহিনীর যুদ্ধাপরাধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁর বিরুদ্ধে আলবদর বাহিনীর নেতা হিসেবে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়ে অন্তত ১৪০০ লোককে হত্যা ও ১৪ জনকে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আজহারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন জামায়াতের সেই সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের জেলা কমিটির সভাপতি। পদাধিকার বলেই আলবদর বাহিনীর রংপুর শাখার কমান্ডারও ছিলেন তিনি। বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম দমনে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য এই বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল।

আজহারের বিরুদ্ধে দুটি গণহত্যা, একটি ধর্ষণ, চারটি হত্যা এবং অপহরণ, আটক, নির্যাতনের তিন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর আজহারের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল।

দমন-পীড়ন চলতে থাকলে রাজপথে কর্মসূচি: আসিফ মাহমুদ

তারেক রহমান, এক রাজনীতিকের পুনর্জন্মের গল্প

বিরোধীদলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ইসলামী ছাত্রশিবিরের

নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে কারচুপি হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

ভোট গ্রহণটা যেভাবে হয়েছে, গণনাটা তার সম্পূর্ণ উল্টোভাবে হয়েছে: মামুনুল হক

আমাদের বাধ্য করা হলে রাজপথে নামব: জামায়াত আমির

মাইকে ঘোষণা দিয়ে এনসিপির নেতা-কর্মীদের আক্রমণ করছে: আখতার হোসেন

দুই বেয়াইসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চারজন জয়ী

তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন মির্জা ফখরুল

অর্থনীতি সচল করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: মির্জা ফখরুল