নাম উল্লেখ না করে একটি দলের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একসময় আপনারাও মজলুম ছিলেন। এখন কেন জালিম হচ্ছেন? আমরা আশা করি, আপনারা সংশোধন হবেন। যারা সংশোধন হবেন, তাঁদের বুকে টেনে নেব। যাঁরা হবেন না, তাঁদের প্রতি আমাদের কঠোর হতে হবে।’
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আজ শনিবার আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচন কোনো একক দলের বিজয়ের জন্য নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। আমরা জামায়াতের শাসন কায়েম করতে চাই না। আমরা চাই একটি মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের মানুষ ১২ তারিখের নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ থেকে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চায়। এই পরিবর্তন আসবে সমাজের আকাঙ্ক্ষা, মায়েদের নিরাপত্তা, নারীদের সম্মান এবং দেশের সার্বিক ইজ্জতের ওপর ভর করে। আমরা আর কোনো আধিপত্যবাদ মানব না। কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারও দেখতে চাই না। ভবিষ্যৎ সরকার হবে জনকল্যাণমূলক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে হবে আপসহীন।’
কওমি মাদ্রাসা বন্ধের অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক’ দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আগামী দিনে দেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষ পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।
জামায়াত নির্বাচনে বিজয়ী হলে জাতীয় স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, তবে শর্ত থাকবে দুর্নীতি পরিহার, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জুলাই আন্দোলনের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘একটি দল তারা প্রকাশ্যে “হ্যাঁ” ভোটের কথা বলে, গোপনে “না”-এর জন্য প্রচারণা চালায়। কেউ প্রকাশ্যে এক কথা আর গোপনে আরেক কথা বললে তাকে কী বলা যায়? তারা নিজেদের ঘৃণ্য পরাজয় দেখতে পেয়ে ভীরু কাপুরুষের মতো নারীদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘৃণ্য কাজ করে যাচ্ছে। প্রিয় ভাইয়েরা, কেউ যদি আমার মায়ের দিকে, বোনের দিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে তাকায়, কেউ যদি মেয়েদের হিজাব নিয়ে টানাটানি করে, আপনারা তার হাত ভেঙে দেবেন, চোখ উপড়ে দেবেন। আর কোনো মুনাফেক গোষ্ঠী বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে না। বাংলার মানুষ আর তাদের মেনে নেবে না।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম ও এ টি এম মাছুম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।